সব রেকর্ড ভেঙেছে গোলাপের দাম!

সাধারণ যেকোনো দিন গোলাপের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা ঊর্ধ্বে ২০ টাকা। কিন্তু শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ব ভালোবাসার ও বসন্তের প্রথম দিনে সকাল থেকে গোলাপের দাম আকাশচুম্বী।

পাড়া-মহল্লার অলিতে-গলিতে অস্থায়ী ফুলের দোকানগুলোতে বেশ দাম হাঁকাচ্ছেন দোকানিরা। দুই দিবসে ফুলের চাহিদা বেশি হওয়ায় এমন দামে ফুল কিনতে হচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের ফুলের আড়ত ও দোকান ঘুরে দেখা যায়, খুচরা বিক্রেতারা ফুলের মালা তৈরি করছেন। তৈরি মালা ও গোলাপসহ বিভিন্ন জাতের ফুল বিক্রি করছেন। অনেকে আজকেই বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে ফুলের দোকানে আসছেন। ফুল কিনছেন।

রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে ফুলের দামের ভিন্নতাও দেখা গেছে। ধানমন্ডিতে যে দেশি গোলাপ ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা, সেটি শাহবাগে বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৩০ থেকে টাকায়। ধানমন্ডিতে চায়না গোলাপ (দেশে উৎপাদিত) ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা শাহবাগে ১৭০ টাকা। অন্য ফুলের ক্ষেত্রেও দামের পার্থক্য রয়েছে।

ধানমন্ডির এক খুচরা ব্যবসায়ী বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে ৫০০ গোলাপ কিনে এনেছি। প্রতি গোলাপ কিনেছি ৫০ টাকা করে। বৃহস্পতিবার বিক্রি করেছি ৬০ থেকে ৭০ টাকা করে। শুক্রবার সকালে প্রতিগোলাপ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্তও বিক্রি হয়েছে।

যশোরের চাষিরা জানান, এ বছর বিরূপ আবহাওয়া ও ভাইরাসজনিত কারণে ফুলের উৎপাদন অনেক কম। এ কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই বাড়ছে ফুলের দাম।

ফুলচাষি ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আব্দুর রহিম জানান, আজকের বসন্তবরণ ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে গত ৩/৪ দিন আগে থেকেই সারাদেশের ফুলের পাইকারী বাজার গুলোতে ফুল বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। গত বুধবার রাতে প্রতি ঝোপা গাঁদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়, রজনীগন্ধ্যার ষ্টিক প্রতি একশ বিক্রি হচ্ছে ৫ থেকে ৬শ টাকায়, তবে প্রতি একশ গোলাপ বিক্রি হচ্ছে ১৮’শ থেকে ২ হাজার টাকায়। প্রায় ৩ যুগের ব্যবসার অভিজ্ঞতায় গোলাপের দাম তার জানা মতে এ বছরই সর্বোচ্চ বলে দাবি করেন এই ব্যবসায়ী।