ভালোবাসা দিবসে মৃত্যুর মিছিল

ভালোবাসার দিনে পৃথক দুর্ঘটনায় প্রাণ গিয়েছে অন্তত ১২ জনের। আহত হয়েছে কমপক্ষে ৮০ জন। এছাড়াও নিখোঁজ আছে তিনজন।

রাঙ্গামাটি

জেলার কাপ্তাই লেকে নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাঙামাটি ডিসি বাংলো এলাকা থেকে সুবলং যাওয়ার পথে নৌকাটি ডুবে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মৃতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তারা সবাই চট্টগ্রাম প্যাসিফিক জিন্স গার্মেন্টসের কর্মী বলে জানা গেছে।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শওকত আকবর জানিয়েছেন, নৌকাডুবির ঘটনায় হাসপাতালে পাঁচজনের মরদেহ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী নদীর কলার ডিপু এলাকায় ৫৩ জনের ইসকনবাহী একটি নৌকা ডুবে যায়। এই ঘটনায় তিন শিশু নিখোঁজ রয়েছে। তারা হলো- বিনয় (০৫), টুম্পা মজুমদার (৩০) ও দেবলীলা (১০)। নিখোঁজদের উদ্ধারে প্রশাসন কাজ করছে।

রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছুফিউল্লাহ জানান, পৃথক দুটি নৌকাডুবির ঘটনায় পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনজন নিখোঁজ রয়েছে। তবে মৃতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গোপালগঞ্জ

জেলা কাশিয়ানীতে যাত্রীবাহী বাস ও নসিমনের সংঘর্ষে পাঁচ শ্রমিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরও সাতজন। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার পোনা বাস স্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো- মো. বদির (৩০), মো. মিজান (৪৩) ও মো. সুমন (২৮)। তারা সবাই ঢালাই শ্রমিক ও কাশিয়ানী উপজেলার পারুলিয়া এলাকার বাসিন্দা। বাকি দুইজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ফাল্গুনী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে লিংক রোড থেকে হাইওয়েতে উঠার সময় একটি ঢালাই শ্রমিকবাহী নসিমনের সাথে সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে মিজান নামে এক শ্রমিক নিহত হন ও ১১ জন শ্রমিক গুরুতর আহত হন।

পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে বদির ও সুমনসহ আরও দুইজন মারা যান। গুরুতর আহত ৭ জনকে কাশিয়ানী উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পারুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুকিম মুন্সি জানিয়েছেন, নিহত ও আহত শ্রমিকরা তার ইউনিয়নের বাসিন্দা। তারা বিল্ডিং-এর ঢালাইয়ের কাজ করতে যাচ্ছিলেন।

কাশিয়ানী থানার ওসি আজিজুর রহমান রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

রাঙামাটি

সদর উপজেলায় পিকনিকের বাস উল্টে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত ও আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সাপছড়ির শালবাগান বেইলিব্রিজ এলাকায় এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত হয়েছে বাসের হেলপার তবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ জানান, নিহতের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হবে। আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পলাতক চালককে খুঁজছে পুলিশ।

জামালপুর

জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় রফিক মিয়া (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এ সময় অন্তর মিয়া (৩৫) নামে একজন গুরুতর আহত হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সূর্যনগর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত রফিক জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আম খাওয়া (কাঠাঁরবিল) গ্রামের মঞ্জু মিয়ার ছেলে। আহত অন্তর একই গ্রামের জলিল মিয়ার ছেলে।

প্রত্যাক্ষদর্শী সূত্রে জানাগেছে, নিহত রফিক মিয়া ও গুরুতর আহত অন্তর মিয়া মোটরসাইকেল যোগে বকশীগঞ্জে আসছিল। সূর্যনগর এলাকায় ব্রিজের পাশে পৌছাঁমাত্র বিপরীত দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা একটি ট্রাক তাদেরকে চাপা দেয়। তারা দুজনেই ছিটকে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রফিক।

কুষ্টিয়া

মধ্যরাতে মারাত্মক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী বহনকারী একটি ভাড়ায় চালিত বাস।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে গাড়িতে থাকা দুই শিক্ষক ও চালকসহ প্রায় ৪০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা যায়, আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে বাসটি কুষ্টিয়ার বিত্তিপাড়া নামক স্থান পার হয়। বাসটির চালক বিত্তিপাড়া থেকে কিছুদুরে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে ওভারটেক করতে যায়। বিপরীত দিক থেকে আরো যানবাহন আসতে দেখে চালক দ্রুত গতিতে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে ওভারটেক করতে গেলে ওই ট্রাকের সাথে সজোরে ধাক্কা খায় বাসটি।

এসময় বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে গিয়ে পাশে থাকা গাছের সাথে বেঁধে যায়। এতে বাসের সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায়।