পেঁয়াজের পর আলোচনায় রসুন

পেঁয়াজের দর স্থিতিশীল হওয়ার আগেই এবার আলোচনায় রসুন। রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেল, এককেজি দেশি পেঁয়াজ ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজিতে। আর আমদানি করা রসুন কিনতে হচ্ছে ২২০ টাকায়।

জানা গেছে, দেশে প্রতিবছর রসুনের চাহিদা প্রায় ৬ লাখ টন। এর মধ্যে ১৩-২০ শতাংশ আমদানি করতে হয়। বাকি রসুন দেশেই উৎপাদন হয়। ট্যারিফ কমিশনের হিসেবে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রসুন উৎপাদিত হয়েছে ৬ লাখ ১৩ হাজার টন। সেখান থেকে পচে যাওয়া রসুন বাদ দিয়ে প্রকৃত উৎপাদন ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২২ হাজার টন। তবে বিবিএসের হিসাবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রসুনের উৎপাদন হয়েছে ৪ লাখ ৬৬ হাজার টন।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশি রসুনের মূল্য বেড়েছে ১৯১.৬৭ শতাংশ। আর আমদানি করা রসুনের মূল্য বেড়েছে ১৬০ শতাংশ। তবে গত এক মাসের ব্যবধানে আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে ৮৮.৮৮ শতাংশ।

খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, গত বছর যে রসুন ৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত এখন সেই রসুন প্রতিকেজি ২০০-২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও আমদানি করা রসুন প্রতি কেজি ২২০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। আর দেশি নতুন রসুনের কেজি ১৫০-১৬০ টাকা।

পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে যত রসুন আমদানি হয় তার ৯৬ শতাংশই আসে চীন থেকে। করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় এক মাস ধরে চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সেখান থেকে রসুন আসছে না। বিকল্প হিসেবে বর্তমানে ভারত ও মিয়ানমার থেকে অল্প পরিমাণ রসুন আমদানি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, চীনের সঙ্গে যোগাযোগ ঠিক না হওয়া পর্যন্ত রসুনসহ জিনিসপত্রের দাম এভাবে বাড়তেই থাকবে।

এছাড়া দাম বেড়েছে চিনিরও। এখন প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকায়। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে,  প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা এবং প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকায়। শিম প্রতিকেজি ৪০-৫০ টাকা,  বেগুন ৫০-৬০ টাকা,  করলা ৮০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা,  টমেটো ৪০-৫০ টাকা,  শসা ৫০-৬০ টাকা,  মুলা ২০-২৫ টাকা,  শালগম ২০-৩০ টাকা, গাজর ২৫-৩০ টাকা, কুমড়া ২০ টাকা এবং আলু ২০-২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।