‘আমার জীবনটাই শেষ হয়ে গেল’

তিন মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়া এখন ১৫ দিনের পুলিশি রিমান্ডে। তার রিমান্ডের দুদিন শেষ হয়েছে। রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছে অবৈধ কর্মকাণ্ডে দাবিয়ে বেড়ানো এই নেত্রী। এসব তথ্যের সূত্র ধরে পাপিয়ার সহযোগী ও তার প্রশয়দাতাদের বিরুদ্ধে কাজ শুরু করেছে আইনশৃংখলাবাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের এই নেত্রী গ্রেপ্তারের পর থেকে বিমর্ষ হলেও তার মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করছে না। আদালতের শুনানির ফাঁকে পাপিয়ার প্রশ্ন ছিল, আমি আবার কী অপরাধ করলাম!

সোমবার বেলা ৩টা ২৯ মিনিটে প্রথমে পুরুষ আসামিদের কাঠগড়ায় তোলা হয়। নারী পুলিশ সদস্যরা পাপিয়াসহ দুই নারী আসামিকে কাঠগড়ায় না নিয়ে আইনজীবীদের চেয়ারে বসানোর চেষ্টা করেন। তবে উপস্থিত আইনজীবীদের চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত অপরাধ জগতের এই রানিকে কাঠগড়ায় তোলা হয়।

এর পর একজন আইনজীবী কাঠগড়ার সামনে এসে পাপিয়া এবং তার স্বামীকে বলেন, ‘আপনারা যদি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন, তা হলে পুলিশের শেখানো কোনো কিছু বলবেন না।’

এ সময় পাপিয়াকে হতাশা প্রকাশ করে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কী অপরাধ করলাম!’

অন্য দুই মামলায় শুনানির জন্য নতুন হাকিম এজলাসে এসে আসন নিলে কিছুটা বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকাতে দেখা যায় পাপিয়াকে।

আদালত চলাকালে বিচারক পাপিয়াসহ অন্য আসামিদের কিছু জিজ্ঞাসা করেননি, তারা নিজে থেকে কোনো কথা বলেননি।

পাপিয়ার মধ্যে অপরাধবোধ কাজ না করলেও এতটুকু বুঝতে পেরেছেন ইমেজে যে কালিমা পড়েছে তাতে তার ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাই তো বিচারক পরিবর্তনের ফাঁকে এক আইনজীবীকে পাপিয়া বলেন, ‘আমার লাইফটাই শেষ হয়ে গেল!’

শনিবার দুপুরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউসহ (২৮) চারজনকে আটক করে র্যা ব-১। পাপিয়া নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।