প্রথম প্রহরে শত আলোক প্রজ্বলনে জাতির পিতাকে স্মরণ করলো গৌরব ‘৭১

‘বাঙালির জাগরণে মহাজাদুকর’ এ স্লোগান নিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষের প্রথম প্রহরে শত আলোক প্রজ্বলন ও স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে স্বাধীনতার সপক্ষের সংগঠন গৌরব ‘৭১।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজধানীর শাহবাগ প্রজন্ম চত্ত্বরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য ( প্রশাসন) অধ্যাপক ড.  মুহাম্মদ সামাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু, নাট্য ব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী, আওয়ামী যুব মহিলা লীগের সহ সভাপতি কুহেলী কুদ্দুস মুক্তি, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার ইলিয়াস শরীফ, বিবার্তা২৪ ডট নেটের সম্পাদক বাণী ইয়াসমিন হাসি প্রমুখ। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গৌরব’ ৭১ এর সভাপতি এসএম মনিরুল ইসলাম মনি এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন। 


অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য ( প্রশাসন) অধ্যাপক ড.  মুহাম্মদ সামাদ বলেন, আমি সৌভাগ্যবান যে, আমারই কবিতার চরণ মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের স্লোগান হিসেবে নেয়া হয়েছে। সেটি হলো ‘মুজিব আমার স্বাধীনতা অমর কাব্যের কবি’।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এমন এক মহানায়ক, যে নায়কের জন্ম না হলে এদেশ সৃষ্টি হতো না। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে দাঁড়িয়ে আমাদের তাঁর জীবনী থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তাঁর আদর্শকে ধারণ করতে হবে। এসময় তিনি  “এই বাংলা মুজিবময়” শিরোনামে একটি কবিতা আবৃত্তি করেন।

অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম বলেন, আমাদের নিজেদের আত্মসমালোচনা করা উচিত। আমাদের আত্মশুদ্ধির প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু  আমাদের যা শিখিয়েছেন, তার বাস্তব প্রয়োগ করা উচিত। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ থেকে এটাই আমাদের শেখা উচিত। 

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন, আমরা সৌভাগ্যবান বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ পালন করতে পারছি।

গৌরব’৭১ আজকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষের প্রথম প্রহরে আলোক প্রজ্জ্বলের আয়োজন করেছে। আর এজন্য তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কখনো আপোষ করেননি। তাঁর জন্ম না হলে এদেশ হতো না। তাই তিনি আমাদের জাতির জনক। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষে এসে আমাদের তাঁর জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে তাঁর আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এদেশকে আরো এগিয়ে নিতে আমাদেরকেও তাঁকে সহযোগিতা করতে হবে।

নাট্য ব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী বলেন, সারাবিশ্ব এ দিনটিকে নিয়ে গর্ব করে । এ দিনটি মনে করিয়ে দেয় স্বাধীনতার কথা। মুজিববর্ষের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে।

গৌরব’৭১ এর সভাপতি এসএম মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে গৌরব’৭১ আয়োজিত আলোক প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত হয়েছেন তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে গৌরব’৭১ সবসময় কাজ করে যাবে বলে জানান তিনি।

গৌরব’৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন বলেন,সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে গৌরব’৭১ আলোক প্রজ্জ্বলন করেছে। আমরা চাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আলোর ন্যায় চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ুক।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর খুনী নুর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গৌরব’৭১ অনলাইন পিটিশনের আয়োজন করেছে। সেখানে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছে।মুজিববর্ষেও সেই পিটিশন চলমান রাখা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীরা যে যেখানে থাকুক না কেন গৌরব’৭১ তাদের ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে বরাবরের ন্যায় রাজপথে থাকবে। 

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকরা কখনো জামায়াত শিবিরের সাথে আপোষ করতে পারে না। তাই গৌরব ‘৭১ সবসময় স্বাধীনতা বিরোধী প্রেতাত্মাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবে।

অনুষ্ঠানে কবি অনিকেত রাজেশ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি করেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার (বর্তমানে জেলা) টুঙ্গিপাড়া গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। চলতি বছর এ মহান নেতার জন্মশতবর্ষ। আর এ উপলক্ষে দেশে-বিদেশে নানাবিধ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে কিছু কর্মসূচি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত করা হয়েছে। গৌরব’৭১ প্রতিবছর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে রাজধানীর সবচেয়ে বড় চিত্রাঙ্গণ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। চলতি বছরও তাদের সেই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে করোনাভাইরাসের কারণে সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।