খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন: ফখরুল

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকেলে উত্তরার বাসা থেকে ভিডিও কনফারেন্সর মাধ্যমে সিলেটে ‘এমএ হক স্বাস্থ্যসেবা’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের উদ্যোগে সদ্য প্রয়াত এমএ হকের স্মরণে ‘এমএ হক স্বাস্থ্য সেবা’র এই কর্মসূচি হয়। গত ৩ জুলাই চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও সিলেট জেলার সাবেক সভাপতি এমএ হক মারা যান।

মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা সবাই জানেন, আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে। মাত্র ছয় মাস মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে তাকে বাসায় রাখা হয়েছে। সেখানে তাকে (খালেদা জিয়া) বলা হয়েছে যে, তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারবেন না। অথচ তার চিকিৎসাটা এখন বিদেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, সরকারের চরম অবহেলা, অবজ্ঞা এবং তাদের যে একটাই লক্ষ্য চুরি সেই কারণেই আজকে করোনা পরিস্থিতি এই অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে বিদেশ থেকে যারা ফেরত আসছেন তাদের স্ক্যানিং যে টেস্ট সেই টেস্টে সবাই তারা করোনামুক্ত। অথচ বিবিসি বাংলা বিভাগের একজন সাংবাদিক তিনি সেই হজ্ব ক্যাম্পে গিয়ে যাত্রীদের মধ্য একজনকে জিজ্ঞাসা করেছেন। তিনি (যাত্রী) জবাবে বলেছেন, আমাদের কোনো স্ক্যানিংই হয়নি।

তিনি বলেন, দেখেন, কতটা দায়িত্বহীন হতে পারে এই স্বাস্থ্য অধিদফতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, কতটা উদাসীন হতে পারে সরকার। এতো ঘটনার পরেও এই হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুবরণ করার পরে, লক্ষ লক্ষ লোক আক্রান্ত হওয়ার পরে যখন একেবারে জীবন-জীবিকা সব কিছু ওলোট-পালট হয়ে যাচ্ছে সেই সময়েও তারা তাদের নূন্যতম যে দায়িত্ব সেটা পালন করছে না।

রিজেন্ট হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট সরবারহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের প্রধান সাহেদ (মো. সাহেদ) সাহেব যে তারা কোনো পরীক্ষা না করেই করোনা টেস্টের রেজাল্ট দিচ্ছে। এটা তো একদিকে জীবনের প্রশ্ন মারাত্মকভাবে স্বাস্থ্যের সমস্যা। অন্যদিকে যে পরিণতি। আজকে সমস্ত বিশ্বে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে, এটা অলরেডি গ্লোভাল মিডিয়াতে চলে গেছে। সব এয়ারলাইন্সগুলো বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। এটা বড় রকমের একটা এডভান্স ইমপ্যাক্ট ইকোনমিতেও পড়বে।

সিলেট জেলা সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ডা. শামীমুর রহমানের সভাপতিত্বে ও মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কয়েস লোদীর পরিচালনায় ভার্চুয়াল এই আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কেন্দ্রীয় নেতা সাখাওয়াত হাসান জীবন, কলিম উদ্দিন মিলন, আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন, জেলা সভাপতি আলী আহমদ, প্রয়াত এমএ হকের ছেলে ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম হকসহ সিলেটের মহানগর নেতারা বক্তব্য রাখেন।