গ্রেপ্তারের সময় হাতকড়া পরানো হয়নি মামুনুলকে!

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের সময় হাতকড়া পরানো হয়নি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালেলাচনা।

শনিবার (১৭ এপ্রিল) রাত থেকেই মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার আশপাশে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন অবস্থান নেন। সকালের দিকে মাদ্রাসা এলাকায় বাড়ানো হয় পুলিশ সদস্যের সংখ্যাও। প্রায় দুই শতাধিক পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই মামুনুলকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসা হয়।

পুরো সময়ে তাকে কেন হাতকড়া পরা হয়নি- এমন প্রশ্নে তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশীদ বলেন, মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করাটাই মুখ্য বিষয়। তাকে গ্রেপ্তার করে আমরা নিয়ে এসেছি। এসময় তাকে হাতকড়া পরানো বা না পরানোর নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই।

নাশকতাসহ একাধিক মামলার আসামি হেফাজত নেতা মামুনুলকে গ্রেপ্তারের সময় হাতকড়া পরানো না হলেও সাংবাদিক প্রবীর সিকদার, ফটোসাংবাদিক কাজল, কার্টুনিস্ট কিশোর, কারাগারে মৃত্যুবরণকারী লেখক মুশতাক কিংবা খুলনার শ্রমিক নেতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী রুহুল আমিনকে গ্রেফতারের সময় ঠিকই হাতকড়া পরানো হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলের মধ্যে।

এর আগে সংশ্লিষ্টরা জানান, মামুনুলকে গ্রেপ্তারে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদসহ কয়েকজন মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে মামুনুল হককে বলা হয়, ‘আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে’। পরে মামুনুল হক স্বাভাবিকভাবেই হেঁটে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে আসেন।

মামুনুলের হাতে গ্রেফতারের সময় হাতকড়া পরানো হয়নি। তার সঙ্গে মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষককে হেঁটে আসতে দেখা যায়। এসময় মামুনুল স্বাভাবিকভাবেই অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে এগিয়ে যান। মাদ্রাসা থেকে বের হওয়ার পর একটি গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ডিসি হারুনের কার্যালয়ে।

বের হওয়া ও গাড়িতে তোলার সময় হেফাজত কিংবা মাদ্রাসার কেউই মামুনুলের গ্রেপ্তারে বাধা দেয়নি। তবে মামুনুলকে গাড়িতে তোলার পর কয়েকজনকে স্লোগান দিতে দেখা যায়।