চিকিৎসক-পুলিশ পাল্টাপাল্টি বিবৃতি, ক্ষুব্ধ আদালত

চলমান সর্বাত্মক লকডাউনে সড়কে ‘মুভমেন্ট পাস’ নিয়ে চিকিৎসক, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের বাগবিতণ্ডার ঘটনায় দুই পেশাজীবী সংগঠন পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, ওই ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেয়া সমীচীন হয়নি। তাদের এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছে এমন আচরণ কাম্য নয়।

মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এমন মন্তব্য করেন।

এর আগে রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে চিকিৎসক, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উত্তেজনাপূর্ণ বাদানুবাদ ও অসৌজন্যমূলক আচরণের ঘটনায় পালটাপালটি প্রতিবাদ জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাঈদা শওকত এ প্রতিষ্ঠানের লোগো সংবলিত গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন। পুলিশ তার গাড়ি থামালে পরিচয় দেওয়ার পরও তার চিকিৎসক পরিচিতি ভুয়া বলে তাকে অসৌজন্যমূলকভাবে গাড়ি থেকে নামতে বলা হয়। ডা. সাঈদা তার নাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো সংবলিত অ্যাপ্রোন পরা অবস্থায় ছিলেন। এরপরও পুলিশ তার সঙ্গে অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চেকপোস্ট চলাকালে চিকিৎসককে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরিচয়পত্র দেখাতে বললে তিনি ন্যক্কারজনকভাবে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি শুধু ওই পুলিশ সদস্যদের অপমান করেননি গোটা পুলিশ বাহিনীকে কটাক্ষ ও হেয়প্রতিপন্ন করেছেন। তীব্র নিন্দাসহ প্রতিবাদ জানাচ্ছে ও একই সঙ্গে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে।

এদিকে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চে অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ সোমবার বাকবিতণ্ডার ওই ঘটনা নজরে আনেন। তিনি আদালতকে বলেন, আমি জনস্বার্থে একজন চিকিৎসককে পুলিশি হয়রানির এ ঘটনা আপনাদের কাছে উপস্থাপন করছি। আদালত বলেন, পুলিশ-চিকিৎসক বাকবিতণ্ডা করেছেন। আজ আদালত এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।