যাত্রীদের রোষানলে ছাড়ল ফেরি

মাঝরাত থেকে ফেরি বন্ধের সিদ্ধান্তের পরেও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ফেরিঘাটে দক্ষিণবঙ্গের ঘরমুখী যাত্রীদের ঢল নেমেছে। শনিবার (৮ মে) ভোর থেকে বিভিন্ন যানবাহনে করে ঘাট এলাকায় জড়ো হতে থাকেন হাজার হাজার মানুষ। যাত্রীর চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে ঘাট কর্তৃপক্ষকে। এ অবস্থায় শিমুলিয়া ঘাট থেকে একটি ফেরি মাদারীপুরের শিবচর অভিমুখে ছাড়তে দেখা গেছে।

কুঞ্জলতা নামে একটি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। ঘাটে রয়েছে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ।

ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, ফেরি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও ঘাটে যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ। ফলে যাত্রীদের রোষানলে পড়ে ফেরি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।

শিমুলিয়া  ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (টিআই) হিলাল উদ্দিন বলেন, গতকাল শুক্রবার রাত ৩টা থেকে শিমুলিয়া ঘাটে সব ধরনের ফেরি পারাপার বন্ধ আছে। ফেরি কুঞ্জলতা সকাল ৮টা ১০ মিনিটে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাট থেকে ৫টি অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশের দুটি পিকআপভ্যান ও ৫ শতাধিক যাত্রী নিয়ে শিমুলিয়া ঘাটে আসে। ওই ফেরিতে যাত্রীরা ওঠেন। পরে ফেরিটি ঘাট এলাকায় সকাল ৮টা পর্যন্ত নোঙর করে রাখা হয়। এ সময় ফেরি বন্ধ থাকায় যাত্রীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

তিনি বলেন, যাত্রীদের রোষানলে পড়েন ঘাট কর্তৃপক্ষের লোকজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুসারে সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে ফেরি কুঞ্জলতায় যাত্রীবোঝাই করে মাদারীপুর ঘাটে পাঠানো হয়। তবে এমন অবস্থা সারা দিন চলতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। তিনি বলেন, শিমুলিয়া ঘাটে এখনো ৪ শতাধিক ট্রাক ও পিকআপ ভ্যান এবং ৭টি অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের অপেক্ষায় আছে। ব্যক্তিগত ছোট গাড়িও আছে। ১০ হাজারের বেশি যাত্রী ঘাটে পার হওয়ার জন্য জড়ো হয়েছেন।

এক যাত্রী বলেন, সেহরির সময় নাকি ফেরি বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা যদি সন্ধ্যার সময় বলত তাহলে এতগুলো মানুষ তো আসত না। এখন কিছু করার নেই। ফিরে যাচ্ছি।

বিষয়টিকে ভোগান্তি বলে উল্লেখ করেছেন অনেক যাত্রী। কথা বলে জানা গেছে, হঠাৎ করে ফেরি বন্ধের এই সিদ্ধান্তের কথা তারা আগে থেকে জানতেন না।