ডেঙ্গু নিয়ে ২ সিটিকে সতর্ক করলেন হানিফ

করোনাভাইরাসের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বর যাতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ।


দুই সিটির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শুধু দুই একজনের বাসায় গিয়ে অপরিচ্ছন্নতার জন্য জরিমানা করলে ডেঙ্গু চলে যাবে না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডোবা-নালাসহ মশা নিধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে । মনে রাখবেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ডেঙ্গু করোনা মহামারীতে আরেকটা বড় বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।


রবিবার (১৮ জুলাই) সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটশনের আইইবি কাউন্সিল হলে ম্যাক্স গ্রুপ অক্সিজেন সাপোর্ট সেন্টার উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।


হানিফ বলেন, গত দেড় বছরে সারাবিশ্বে মানব জীবন বিপন্ন, কঠিন সময় পার করছে। বাংলাদেশও এর বাহিরে নয়। তারপরও করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার দক্ষতা -বিচক্ষণতায় চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ ও সরকারি ভাবে পরামর্শ করে যথাযথভাবে পদক্ষেপ নেয়ায় বাংলাদেশ এখনো কিছুটা স্বস্তিতে আছে।


কিছু মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ে সচেতন থাকতে চান না জানিয়ে তিনি বলেন, আজকে গ্রামাঞ্চলে দেখা যাচ্ছে কিছু মানুষ এখনো মাস্ক পড়ার ব্যাপারে উদাসীন। তাদের এ উদাসীনতার জন্য দায়ী তথাকথিত কিছু ধর্মীয় বক্তা। ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে এরা মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এদের কেউ বলছে, বাংলাদেশে যেহেতু ওয়াজ-মাহফিল হয়, তাই এদেশে করোনা আসবে না। আবার কেউ বলেছে, করোনা বাংলাদেশে আসলে আল্লাহর কুরআন মিথ্যা হয়ে যাবে। অথচ আল্লাহর রাসূলের জন্মভূমি সৌদি আরবেও করোনা এসেছে। করোনা ধনী-গরিব দেখে না, জাত-প্রথা দেখে না। কাজেই এ বিষয়টি মাথায় নিয়ে মাস্ক পড়াসহ সচেতন থাকতে হবে। নিজের জীবন সুরক্ষা করতে হবে , অন্যকে সুরক্ষা থাকতে সহযোগিতা করতে হবে।


তিনি বলেন, এ দুর্যোগ থেকে বাঁচতে আমাদের দুইটা পথ খোলা আছে। টিকা নিতে হবে এবং টিকা নেয়ার আগ পর্যন্ত সচেতন থাকতে হবে। আমরা আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের পাশে আছি। আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৮০ ভাগ মানুষ টিকা পেয়ে যাবেন।


করোনাকালীন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। এদেশের প্রতিটি দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এবারও করোনার প্রথম থেকে এ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতানেতাকর্মীরা অসহায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। যখন করোনায় মানুষ মারা গেছেন তখন অনেক সময় আপনজন কাছে না আসলেও এরা জনগণের পাশে থেকেছে। করোনায় মৃতদের লাশ দাফন, অসহায়-কর্মহীনদের বাড়ি বাড়ি খাদ্য পৌঁছে দেয়া, কৃষকদের ধান কাটা ও বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া, সরকারি হাসপাতাল পরিষ্কার-রিচ্ছন্নতা অভিযান, মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, অক্সিজেন সার্ভিস, মাস্ক বুথসহ নানামুখী উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং হচ্ছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের দ্বারা।


তিনি বলেন, আমার নিজের এলাকা কুষ্টিয়ায় ৬৫ জন ছাত্রলীগের নেতাকর্মী দিনরাত মানবসেবায় দিনাতিপাত করছে। এভাবে প্রত্যেক জেলা-উপজেলায় আমাদের নেতাকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এসবের মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হয়েছে আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল।


শিল্পপতি -ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে হানিফ বলেন, এ দুর্যোগ জাতির দুর্যোগ, বিশ্বের দুর্যোগ। বিশ্বের ৪১ লাখ মানুষ এতে ইতোমধ্যে প্রাণ হারিয়েছে। এ দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারকে একা দায়িত্ব না দিয়ে জনগণকে এগিয়ে আসলে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কাজটা আরও সহজ হবে। এটা মোকাবেলায় ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের এগিয়ে আসতে হবে। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবসায়ী, শিল্পপতীরা যেভাবে করোনা মোকাবিলায় জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারকে সহায়তা করে যাচ্ছে। আমাদের দেশে সেটা এখনো তেমন চোখে পড়েনি। আমরা আশা করবো, অতি শীঘ্রই তারা জনগণের পাশে দাঁড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন। সকলকে নিয়ে আমরা এ দুর্যোগ মোকাবেলা করতে চাই। আসুন, সকলে মিলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলা করি। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।


কুষ্টিয়ার এ সাংসদ বলেন,আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে, তা আর কেউ করেনি। ৫০ লাখ অসহায় জনগণের মাঝে আড়াই হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে, ২ কোটি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আবার এসব সহায়তার জন্য কাজ চলমান রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এসব চলমান রাখতে হবে। এসবের জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। যার যার অবস্থান থেকে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের এ দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর।


প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. মুরাদ হাসান এমপি তার বক্তব্যে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যত টাকা লাগুক আমি দেশের প্রতিটি নাগরিককে ভ্যাক্সিনের আওনায় নিয়ে আসবো। এরকম সাহস করে বিশ্বের কোন নেতা এমন কথা বলেননি। করোনা মোকাবিলায় নানামুখী পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী সারাবিশ্বে প্রশংসিত হয়েছেন। দেশের জন্য তিনি সব ব্যবস্থা করেছেন। আজকে দেশে ভ্যাক্সিনের কোন সঙ্কট নাই, অক্সিজেনের সঙ্কট নাই।


তিনি বলেন, আমি ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট আইইবি ও ম্যাক্স গ্রুপকে অক্সিজেন সাপোর্ট সেন্টার করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। দেশের মানুষের জন্য এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে। কুরবানির এই সময়ে জনগণকে সচেতন -সতর্ক থেকে চলাচলের জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।


আইইবির প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে আহ্বায়ক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস - প্রেসিডেন্ট (এইচআরডি), আইইবি ইঞ্জিনিয়ার মো. নূরুজ্জামান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ম্যাক্স গ্রুপ এবং নির্বাহী ভাইস-চেয়ারম্যান, ইআরসি, ঢাকার চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীর,স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিইঞ্জ সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাদাৎ হোসেন শীবলু প্রমুখ।