সিনহা হত্যার ১ বছর: মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনো ধোয়াশা

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। ২০২০ সালের ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ৯টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এপিবিএন চেকপোস্টে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন তিনি।

বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীকে প্রধান, টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে দ্বিতীয় ও মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিতকে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব-১৫।

এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৬ আগস্ট কক্সবাজারের টেকনাফ থানার প্রত্যাহারকৃত আলোচিত ওসি প্রদীপ কুমার দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তবে এক বছরেও প্রকাশ হয়নি অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হত্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ, স্পষ্ট হয়নি হত্যার কারণ। বিচার কাজ শুরু হলেও মামলার কার্যক্রম নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশের সময় এখনো আসেনি বলে মনে করেন বাদী।

মামলার বাদী ও সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়ার বলেন, যারা মূল আসামি তাদের যেন ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হয়। বাকি যারা আসামি আছে তাদের অপরাধ বুঝে সে অনুযায়ী শাস্তি দেবেন মাননীয় আদালত। যেদিন বিজ্ঞ আদালত এরকম একটা রায় দেবেন সেদিনই আমি ও আমার পরিবার বলতে পারবো যে আমরা সন্তুষ্ট।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে পরিদর্শক লিয়াকত এ ঘটনার জন্য ওসি প্রদীপকে দায়ী করেছেন। আর ওসি প্রদীপ সব দোষ চাপিয়েছেন লিয়াকতের ওপর। আইনজীবীরা বলছেন, সঠিকভাবেই এগুচ্ছে মামলার কার্যক্রম।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, এক বছর আগে এই মামলা আদালতে রেডি ফর ট্রায়াল হয়ে গেছে, এটা কক্সবাজারের জন্য একটা নজির। একজন অ্যানগেজড অ্যাডভোকেট থাকলে সাক্ষীদের জেরা করার জন্য সময় বেশি লাগার কথা না।

ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কমিটি ওসি প্রদীপ সহ প্রায় সব আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সাক্ষ্য নেয়া হয় ৬৮ জনের। এর ভিত্তিতে ১৩ দফা সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করে মন্ত্রণালয়ে। এ নিয়ে কথা বলতে চাননি কমিটির সদস্যরা। তবে, জানা গেছে, তদন্তকালে কেন এই হত্যাকাণ্ড? কেন গুলির ঘটনা? কোনভাবে এড়ানো যেত কিনা- এমন অন্তত ১২ টি প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর খুঁজে পায়নি কমিটি। সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, ওখানে তদন্ত কমিটি নিশ্চয়ই কোনও সুপারিশ করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এটা জনগণকে জানানো উচিত ঐ রিপোর্টে কি ছিলো।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পর ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে জেলা পুলিশ ও থানাগুলোতে। যে টেকনাফ থানা নিয়ে অভিযোগের পাহাড়, সেখানেও এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন।