রাজারবাগ পীরের জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না- তা তদন্তের নির্দেশ

ঢাকার রাজারবাগ দরবার শরীফের সব সম্পদের বিষয়ে তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সেইসঙ্গে তাদের কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না- তা তদন্ত করতে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে রিটকারীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো হয়রানিমূলক কি না- সেটি তদন্ত করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।


গত ১৬ সেপ্টেম্বর গায়েবি মামলা দিয়ে অযথা মানুষকে হয়রানির অভিযোগ এনে রাজারবাগ দরবার শরীফের পীর দিল্লুর রহমান ও তার মুরিদদের বিরুদ্ধে একটি রিট দায়ের করেন ২০ জন ভুক্তভোগী।


রিটে রাজারবাগ দরবার শরীফের সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দিতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়। সেই রিটে রাজারবাগ পীর ও তার মুরিদদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না মর্মে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে সারা দেশে করা পীরের মামলার বিষয়ে একটি তদন্ত চাওয়া হয়। 


এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শান্তিনগরের বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে ৪৯টি ‘ভুয়া’ মামলা দায়েরের নেপথ্যে রাজারবাগ পীর সিন্ডিকেটের জড়িত থাকার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন হাইকোর্ট।


গত ১৪ জুন রাজধানীর শান্তিনগরের বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চনের বিরুদ্ধে  ৪৯টি ‘ভুয়া’ মামলার বাদীদের খুঁজে বের করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ভুয়া মামলা ঠেকাতে এখন থেকে থানায় বা আদালতে কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে হলে বাদী বা অভিযোগকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি বাধ্যতামূলক দাখিল করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেন হাইকোর্ট।


গত ৭ জুন নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, চুরি-ডাকাতি, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯টি মামলা মাথায় নিয়ে রিট করেন রাজধানীর শান্তিনগরের বাসিন্দা একরামুল আহসান কাঞ্চন। রিটে গায়েবি মামলার বাদীদের খুঁজে বের করতে সিআইডির প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়। একইসঙ্গে মামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একরামুল আহসান কাঞ্চন রিটে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। কাঞ্চনের পক্ষে অ্যাডভোকেট এমাদুল হক বসির এ রিট দায়ের করেন।


রিটকারী একরামুল আহসান কাঞ্চন বলেছিলেন, হত্যা, ধর্ষণ, চুরি-ছিনতাই-চাঁদাবাজি ও মানবপাচারের মতো ভয়ঙ্কর অপরাধের অভিযোগে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমন কোনো অভিযোগ নেই আমার ওপর প্রয়োগ করা হয়নি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এসব মামলার বাদীদের খুঁজে পাইনি। এসব মামলায় দীর্ঘদিন জেলও খেটেছি। এর মধ্যে অনেক মামলায় আদালত বাদী খুঁজে না পাওয়ায় খালাস পেয়েছি।