সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদ সাংস্কৃতিক জোটের

সারাদেশে সনাতন ধর্মলম্বীদের ওপর হামলা ও মন্দির ভাঙচুরের প্রতিবাদ জানিয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। সেই সাথে এ হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার ও সনাতন ধর্মালম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার দাবি জানিয়েছে তারা।


শনিবার বিকাল ৪টায় নাগরিক সমাবেশে অংশ নেয় সংস্কৃতি অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। সেখান থেকে তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।


সাম্প্রতিক সম্প্রীতি বিনষ্ট, পূজামণ্ডপে হামলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টির প্রতিবাদে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, বৈশ্বিক দিক থেকে বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু নৈতিক দিক থেকে চরম অবক্ষয় হয়েছে। আমরা আমাদের সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষা দিই, কিন্তু নৈতিক শিক্ষা দিই না।


তিনি বলেন, আমরা এখনো আশায় বুক বাঁধতে চাই যে, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাভূত করতে পারব। রাজনৈতিক দলগুলো যা-ই করুক না কেন, আমরা সাধারণ মানুষের মধ্যে শুভবুদ্ধি উদয়ের জন্য চেষ্টা করে যাব।


সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, চৌমুহনীসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে শারদীয় দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন পূজামণ্ডপে যে হামলা হয়েছে তার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে অপরাধীদের গ্রেফতার করতে হবে। শুধু গ্রেপ্তার করলেই হবে না, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে এবং তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।

 

আগামী ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলা ও উপজেলায় সম্প্রীতি রক্ষা দিবস পালিত হবে জানিয়ে সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি বলেন, প্রত্যেক জেলায় সভা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সাংস্কৃতিক জোটসহ অন্যান্য সংগঠনকে স্ব স্ব জেলায় এ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সেদিন কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকায় কোনো সমাবেশ করব না, চৌমুহনীতে সমাবেশের আয়োজন করব। সেখানে যাওয়ার পথে হামলার শিকার কুমিল্লার সেই মন্দিরে যাব। চৌমুহনীতে সমাবেশের মাধ্যমে আমাদের কর্মসূচি সমাপ্ত হবে।


গৌরব’৭১ এর সাধারণ সম্পাদক এফ এম শাহীন বলেন, সারাদেশে আমাদের সনাতন ধর্মবলম্বী ভাই-বোনদের ওপর হামলা হয়েছে, মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। আমাদের অসাম্প্রদায়ীক রাষ্ট্রের যে ভিত্তি তা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দেশে এখনো সক্রিয়। এই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শক্তির এক হতে হবে অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশ গঠনে।


এ জন্য তিনি ৭২এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান সরকারের প্রতি।


নাগরিক সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি জুনায়েদ চৌধুরী, ঝুনা চৌধুরী, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি মিনু হক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফৌজিয়া মোসলেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দিন বাচ্চু, সাংবাদিক আবেদ খান প্রমুখ।