সারাদেশে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়কের উন্নয়ন কাজ ও সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
রবিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে সিলেট জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে মেগা প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন তিনি।
 
উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর মুক্তির আন্দোলনে সিলেটের ইংল্যান্ড প্রবাসীরা বিরাট ভূমিকা রেখেছেন। সেজন্য তাদের সব সময় স্মরণ করি। আবার মুক্তিযুদ্ধেও ইংল্যান্ড প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাছাড়া প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর সিলেট। রেলস্টেশন, বিমানবন্দরসহ সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছি। সিলেটকে উন্নত বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আর দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের ভূমিকা আমরা সব সময় স্মরণ করি। এসময় প্রধানমন্ত্রী দেশের আরো বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছি। সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রেলস্টেশন আমরাই করে দিয়েছি। এবার সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক সড়ক সুন্দরভাবে করে দিচ্ছি। প্রবাসীরা দেশে এসে দেখবেন, এটা দেশের রাস্তা, নাকি লন্ডনের রাস্তা। দেশেই লন্ডনের রাস্তা দেখতে পারবেন প্রবাসীরা। যোগাযোগটা হলে পরে দেশ অনেকটা এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।  

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আর কেউ পিছিয়ে রাখতে পারবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে, জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা বাস্তবায়ন করবো।     
 
উদ্বোধনকালে সিলেট থেকে সরাসরি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, হবিগঞ্জের সংসদ সদস্য মিলাদ গাজি, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান, জেলা প্রশাসক এম কাজি এমদাদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন আহমদসহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা।   
 
এছাড়া সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক জাকির হোসেন।
 
সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের। এর ফলে এ অঞ্চলের সঙ্গে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন হবে। বদলে যাবে এ অঞ্চলের অর্থনীতির চিত্র, গতি পাবে শিল্প ও পর্যটনে। শুধু তাই নয়, চার লেন হয়ে গেলে এ মহাসড়ক দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হওয়ারও আশা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।