ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ঋণ দেবে চীনা ব্যাংক

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে নয় হাজার ৪৭২ কোটি টাকা ঋণ দেবে চীনের এক্সিম ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সরকার ও চীনা এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে প্রকল্পটির ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চীনা পলিসি প্রিফারেন্সিয়াল বায়ার্স ক্রেডিটের (পিবিসি) আওতায় ঋণ দেবে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং চীনা এক্সিম ব্যাংকের পক্ষে ব্যাংকটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ঝাং তিয়ানকিন চুক্তিতে সই করেন।

পিবিসি ঋণচুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের বার্ষিক সুদের হার ২ শতাংশ, ৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছর মেয়াদী শর্তে চীনা এক্সিম ব্যাংকের এই ঋণের অর্থ দেওয়া হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী আশুলিয়া অংশে যানজট কমে যাবে। এটি এশিয়ান হাইওয়ের এলাইনমেন্টের মধ্যে অবস্থিত। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার সঙ্গে ৩০টি জেলার সংযোগ স্থাপনকারী আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল চন্দ্রা করিডোরে যানজট কমে যাবে।

বিমানবন্দর ইন্টারসেকশন থেকে শুরু হয়ে আব্দুল্লাপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল দিয়ে ইপিজেড পর্যন্ত অংশে নির্মাণ করা হবে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। মূল উড়ালসড়কটির দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার। বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে উড়ালসড়কে ওঠানামার জন্য তৈরি করা হবে ১৬টি র‌্যাম্প বা সংযোগ সড়ক। র‌্যাম্পগুলোর সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার। এ প্রকল্পে উড়ালসড়ক ছাড়াও ১৪ কিলোমিটারের বেশি সড়ক নির্মাণ করা হবে।

পাশাপাশি নবীনগর এলাকায় নির্মাণ করা হবে এক দশমিক ৯৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ফ্লাইওভার। এছাড়াও প্রকল্পে দুই দশমিক ৭২ কিলোমিটার সেতু, ৫০০ মিটার ওভারপাস, ইউটিলিটির জন্য ১৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ ও ডাক্ট এবং পাঁচটি টোল প্লাজা নির্মাণ করা হবে।

এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ১৬ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। ৯ হাজার ৪৭২ কোটি দেবে চীন সরকার। বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকার দেবে। প্রকল্পের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন।