মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৫ দিনে নিহত ৩১

দেশে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ঈদের ছুটিতে সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় অর্ধেকই মোটরসাইসাইকেলের। ঈদের এই পাঁচ দিনের মধ্যে সড়কে প্রাণ গেছে অন্তত ৬৫ জনের। এর মধ্যে ৪৮ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এ সময় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ৩১ জন।


বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে দুর্ঘটনা ও হতাহতের এ পরিসংখ্যান উঠে এসেছে।


সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ঈদের পরের দিন বুধবার। ওই দিন দুর্ঘটনায় সারা দেশে কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই উঠতি বয়সী কিশোর ও তরুণ। আর গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ৯টা পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।


সড়কে পাঁচ দিনে নিহত ৬৫ জনের মধ্যে ৩১ জনই (৪৮ শতাংশ) ছিলেন মোটরসাইকেলের চালক বা আরোহী।


ঈদের ছুটি শুরু হয় ১ মে থেকে। ছুটি শুরুর দিন সড়কে তেমন প্রাণ ঝরেনি। ছুটির প্রথম দুই দিনে অর্থাৎ গত রোববার ও সোমবার সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচজন করে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।


সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা এক লাফে ১৩ জনে দাঁড়ায় ঈদের দিন মঙ্গলবার। এদিন দেশজুড়ে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।


ঈদের পরের দিন বুধবার বেড়ে যায় মানুষের বেড়ানো আর ছোটাছুটি। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ে সড়কে প্রাণহানিও। সড়কগুলোতে ওই দিন ২৩ জন নিহত হন। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে স্বামী–স্ত্রীসহ পাঁচজন নিহত হন।


বিকেল চারটায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের পুকুরীরডাঙ্গা-বালুরঘাট এলাকায় তালমা-মডেলহাট সড়কে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের গাছের সঙ্গে ধাক্কায় তিন কিশোর নিহত হয়। তারা উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের জিয়াবাড়ি-খালপাড়া এলাকার মাহবুবার রহমান (১৭), আবু বক্কর সিদ্দিক (১৬) ও নতুন ইসলাম (১৬)। তিনজনই একই মোটরসাইকেলে ছিলেন।


বুধবার দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসায় পিকআপ ভ্যান ও থ্রি-হুইলারের সংঘর্ষে দুই ভাই নিহত হন। নিহত দুজন হলেন রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমহর গ্রামের রেজাউল ইসলামের ছেলে ফিরোজ মণ্ডল (৪৫) ও সামিরুল ইসলাম (১০)। ওই দিন সকালে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস উল্টে দুই যাত্রী নিহত হন।


ঈদ উদ্‌যাপনের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনক ছিল গতকাল বৃহস্পতিবারও। গতকাল রাত নয়টা পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৯। দুজন করে মৃত্যু হয়েছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়ক ও নারায়ণগঞ্জে।


ঈদ উদ্‌যাপনের মধ্যে এখন পর্যন্ত যেসব মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তার মধ্যে প্রায় অর্ধেক মৃত্যুই ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। সড়কে পাঁচ দিনে নিহত ৬৫ জনের মধ্যে ৩১ জনই ছিলেন মোটরসাইকেলের চালক বা আরোহী। অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের ৪৮ শতাংশই ছিলেন হয় মোটরসাইকেলের চালক, নয়তো আরোহী। মোটরসাইকেলের এসব দুর্ঘটনা বেশি ঘটেছে টাঙ্গাইল, পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, দিনাজপুরসহ দেশের আরও কয়েকটি জেলায়।