পদ্মা সেতুতে প্রথম ১৫ ঘণ্টায় আয় দেড় কোটি টাকা

পদ্মা সেতুতে যান চলাচলের প্রথম দিন রবিবার (২৬ জুন) সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ১৫ ঘণ্টায় মোট পারাপার হয়েছে ৩৮ হাজার ৭৮৫টি যানবাহন। আয় হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫২ হাজার ৪০০ টাকা (প্রায় দেড় কোটি টাকা)।


রবিবার সকাল ৬টা থেকে উভয়মুখী যানবাহনের চাপ শুরু হয় এ রুটে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেতুর জাজিরা পয়েন্ট টোল প্লাজায় ঢাকামুখী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন পড়ে। বিকালে বাইকারদের অতিরিক্ত চাপে অন্য যানবাহনের টোল প্লাজা অতিক্রমে বাড়তি সময় লাগে। তবে সেতু চালু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।


পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকোশলী সৈয়দ রজব আলী জানান, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৮ ঘণ্টায় দুই পাড়ে ১৫ হাজার ২০০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এতে ৮২ লাখ ১৯ হাজার ৫০ টাকা টোল আদায় হয়। এরমধ্যে জাজিরা প্রান্তে ৩৫ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং মাওয়া প্রান্তে ৪৬ লাখ ৮৯ হাজার ৫৫০ টাকা টোল আদায় হয়। সকাল ৬টা থেকে মাওয়া থেকে ৮ হাজার ৪৩৮টি গাড়ি পার হয়েছে এবং জাজিরা প্রান্তে পার হয় ৬ হাজার ৭৬২টি গাড়ি।


তিনি আরও জানান, এরপর দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পরবর্তী ৭ ঘণ্টায় মাওয়া থেকে ১৩ হাজার ২০৬টি গাড়ি পার হয়েছে। এতে আয় হয়েছে ৪১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এ সময়ের মধ্যে জাজিরা প্রান্ত থেকে পার হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৯টি গাড়ি। এতে আয় হয়েছে ২৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫০ টাকা।


এর আগে শনিবার (২৫ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন। রোববার ভোর ৬টা থেকে যানবাহনের জন্য পদ্মা সেতু খুলে দেয়া হয়।


স্বপ্নের সেতু খুলে দেয়ার পর এক নজর দেখার জন্য রোববার সকাল থেকেই ভিড় শুরু হয়। দুপুরে কিছুটা কম থাকলেও বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা থেকে রাতেও হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে পদ্মার দুইপাড়ে। টোল প্লাজার কাউন্টারগুলোকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। গাড়ির যানজট এড়িয়ে অনেকে আবার অতি আবেগে হয়ে হেঁটেও পার হওয়ার চেষ্টা করেন পদ্মা সেতু।


নির্ধারিত সময়ের আগেই পদ্মা সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে। গতকাল রবিবার প্রথম ১৫ ঘণ্টায় সেতুর উভয় পাড় থেকে আয় হয়েছে ১ কোটি ৪৮ লাখ ৫২ হাজার ৪০০ টাকা।


পদ্মা সেতু দেশের পদ্মা নদীর ওপর নির্মাণাধীন একটি বহুমুখী সড়ক ও রেল সেতু। এর মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের সঙ্গে শরীয়তপুর ও মাদারীপুর যুক্ত হলো। ফলে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে উত্তর-পূর্বাংশের সংযোগ ঘটেছে।