‘কথায় কথায় জিহাদের কথা বলে উস্কানি দেয়ায় সামাজিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে’

নানা জায়গায় কথায় কথায় জিহাদের কথা বলে উস্কানি দেয়ার কারণে দেশে সামাজিক অবক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি।


তিনি বলেন, আমি মুসলমান হিসেবে আমার ধর্ম নিয়ে কেউ কটুক্তি করলে অবশ্যই আমার কাছে খারাপ লাগবে। ক্ষুদ্ধ হলে আইনগত ব্যবস্থা নিবো। আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারি বা প্রশাসনকে বলতে পারি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। কিন্তু অভিযুক্তের বাড়িঘরে হামলা করবো দেশের আইন আমাকে সেই অধিকার দেয়নি।


বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সকাল ১০ টায় কুষ্টিয়া শিল্পকলা একাডেমিতে জেলার সকল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সাথে শিক্ষার মানোন্নয়ন শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, বাংলাদেশকে স্বাধীন ও উন্নত রাষ্ট্র গড়ার মানসিকতা নিয়ে বঙ্গবন্ধু সংগ্রাম করেছেন। স্বাধীনতার ডাক দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। তিনি সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের উন্নত এবং আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেছিলেন। প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু মারা যাওয়ার পর অনেক সরকারপ্রধান এসেছেন কিন্তু শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছেন এমন একটি কাজ দেখাতে পারবে না।


বিএনপি’র আমলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাকি ছিলো সবগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয়করণ করেছেন। প্রত্যেক জেলা এবং উপজেলা অন্তত একটি করে স্কুল, কলেজ জাতীয়করণ করেছেন। সকল শ্রেণী-পেশার আয়ের মানুষের সন্তান যাতে লেখাপড়া করতে পারে এজন্য বিনামূল্যে বই বিতরণ করেছেন। মানসম্মত শিক্ষক তৈরির জন্য এনটিআরসি চালু করেছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করছেন। দেশ গড়ার জন্য শিক্ষকদের মূল ভূমিকা রাখতে হবে।



যে জাতি শিক্ষক অবমাননা করে সে জাতির ভবিষ্যৎ ভালো হতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি কেন অন্যের মাথায় লাঠি মারবো? নীতি-নৈতিকতায় অধঃপতনের কারণ শিক্ষকের গলায় জুতার মালা, মাথায় লাঠি মারা হচ্ছে। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য কোনো জাতির হতে পারে না। আমরা আমাদের সন্তানদেরকে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার এ কোন শিক্ষা দিচ্ছি?


শিক্ষকদেরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, শিক্ষা মানুষকে নৈতিকতা শেখায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের শিক্ষায় আমরা জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য পাঠ্যপুস্তক মুখস্থ করাই। শিক্ষার্থীদের নীতি-নৈতিকতা, মূল্যবোধ শেখাতে হবে। আজকের দিনে মানুষ নির্লজ্জের মত মানুষ প্রকাশ্যে ঘুষ খাচ্ছে। তার মধ্যে কোন বোধ বিকার নেই। নীতি-নৈতিকতায় অধপতনের একটি চূড়ান্ত উদাহরণ।


দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দিন দিন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে হয়ে যাচ্ছে এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্কুলের পাশে দোকান বানানো হয়। স্কুল মাঠে খেলাধুলা বাদ দিয়ে মেলা বসানো হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি এখন খেলাধুলা হয় না, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় না। অথচ সংস্কৃতি মানুষের মনের চিন্তার বিকাশ সহায়তা করে। সঙ্গীত মানুষের মন চিত্তকে বড় করে, প্রশান্তি এনে দেয়। মেধা বিকাশে ভূমিকা রাখে। প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানো উচিত।


মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া-১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশাহ্, কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মো. খাইরুল আলম।