বিএনপি জোরালো সমাবেশ করতে চায়

যুগপৎ আন্দোলনের চতুর্থ কর্মসূচির সমাবেশও জোরালোভাবে করতে চায় বিএনপি। ২৫ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে এই সমাবেশ হবে। ওই সমাবেশেও বড় জমায়েত নিশ্চিত করতে সাংগঠনিক নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এজন্য দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।



ঢাকায় এই সমাবেশ কর্মসূচি নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।



এছাড়া ওইদিন ঢাকায় গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণফোরাম একাংশ এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিও (এলডিপি) আলাদাভাবে ওই কর্মসূচি একযোগে পালন করবে।


দুর্নীতিবাজ, ফ্যাসিস্ট, গণবিরোধী সরকারের পদত্যাগ, অবৈধ সংসদ বাতিল, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ রাজবন্দিদের মুক্তি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য কমানোসহ ১০ দফা দাবিতে দেশব্যাপী মহানগর এবং জেলা পর্যায়ে এই সমাবেশ করবে দলটি।  


সমাবেশ সফল করতে বিএনপির হাইকমান্ড থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১২ জেলায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম মহাসচিবদেরকে প্রধান অতিথি হিসেবে কর্মসূচিতে অংশ নিতে বলা হয়েছে।



যেসব জেলায় কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নিতে বলা হয়েছে, সেগুলো হলো: ঢাকায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বরিশালে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চট্টগ্রামে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রাজশাহীতে বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, গাজীপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, কুমিল্লায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, সিলেটে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, ময়মনসিংহে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, রংপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, ফরিদপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, খুলনায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী এবং নারায়ণগঞ্জে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।



এসব কর্মসূচি দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ সাংগঠনিক সম্পাদকদের কর্মসূচি সমন্বয় করার জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপির দপ্তর থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।


সমাবেশ সফল করতে ২৩ জানুয়ারি এক বিবৃতিতে দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধায়ীসহ জনসাধারণের প্রতি বুধবার দেশব্যাপী মহানগর ও জেলা পর্যায়ে সমাবেশ সফল করে চলমান গণআন্দোলন বেগবান করার আহবান জানাচ্ছি।


জানতে চাইলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বিবার্তাকে বলেন, ২৫ জানুয়ারি ঢাকাসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরের সমাবেশ সফল করতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আর এই সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে কেন্দ্রীয় নেতারা তৃণমূলের কর্মী এবং অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে প্রতিনিয়ত বৈঠক ও আলাপ-আলোচনা করছেন।


এবিষয়ে ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ বিবার্তাকে বলেন, আমরা সমাবেশে যে লোকসমাগম ঘটনাতে চাচ্ছি, সেটা আশানুরূপ হবে। কারণ আমরা আমাদের নেতৃবৃন্দের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আর এই সমাবেশে শুধু বিএনপির নেতাকর্মী নয়, জনসাধারণও আসবে। এজন্য এই কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ এবং সফল সমাবেশ।


এদিকে ২৫ জানুয়ারির ঢাকাসহ দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরের সমাবেশ সফল করতে প্রতিনিয়তই অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সাথে বৈঠক করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। চলছে ওয়ার্ড পর্যায়েও বৈঠক। এসব বৈঠকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে এবং তাদেরও পরামর্শ নেয়া হয় বলে জানা গেছে।


জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুল হক বিবার্তাকে বলেন, ঢাকার সমাবেশে লোকসমাগম অনেক বেশি হবে। এজন্য ব্যাপক প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। প্রতিনিয়তই সভা হচ্ছে। আর এসব সভা ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডেও করা হচ্ছে।


এবিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু বিবার্তাকে বলেন, ঢাকার সমাবেশ সফল হবে। আর এই সমাবেশে বড় জমায়েতও হবে। এজন্য আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। আর সমাবেশ সফল করতে সোমবার ঢাকা মহানগর থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সকল নেতাদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করেছি। আর মঙ্গলবার ঢাকার সব ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করা হবে। এসব বৈঠকে দেখা গেছে, নেতাকর্মীরা বর্তমান সরকার পতনে স্বোচ্চার ও উজ্জীবিত।


প্রসঙ্গত, গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর গোলাপবাগ মাঠে ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির গণসমাবেশে ব্যর্থ, অযোগ্য, দুর্নীতিবাজ সরকারের পদত্যাগ, অনির্বাচিত সংসদ বিলুপ্ত, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা বাস্তবায়ন এবং দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে ২৪ ডিসেম্বর দেশব্যাপী জেলা ও মহানগরে গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি।


এরই অংশ হিসেবে যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি ৩০ ডিসেম্বর ঢাকা ও রংপুর বিভাগে এবং ২৪ ডিসেম্বর সারাদেশে গণমিছিল করে বিএনপি। পরে দ্বিতীয় ধাপের কর্মসূচি হিসেবে ১১ জানুয়ারি সারাদেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগীয় সদরে গণঅবস্থান কর্মসূচি এবং ১৬ জানুয়ারি তৃতীয় ধাপে কর্মসূচি করেছে বিএনপি ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।