গুরুদাসপুরে মহান জাতীয় দিবসে জাতীয় পতাকার অবমাননা!

লাল-সুবজের পতাকা হৃদয়ে ধারণ করে একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ। ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিল এ দেশেরই মানুষ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে দেশ স্বাধীন করে আপন অস্তিত্ব, অধিকার, চেতনা ও মূল্যবোধ বিশ্ববাসীর কাছে ছড়িয়ে দিয়েছিল এ দেশই। ৩০ লাখ শহীদের রক্তে রাঙা আর নির্যাতিত ৪ লাখ মা-বোনকে জড়িয়ে রাখা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আমাদের অর্জন, আমাদের গর্ব, আমাদের অহংকার।

যে পতাকার ছায়াতলে আমরা বারবার একত্রিত হই। মিছিল করি পতাকা হাতে। প্রজান্ম থেকে প্রজন্মে সঁপে দিই এই পতাকা- এ আশ্বাসে যে, নতুন প্রজন্মই সমুন্নত রাখবে আমাদের বিজয়, আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের একাত্তর। এর অবমাননা মানে জাতির হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা। জাতীয় পতাকার অসম্মানের অর্থ বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস উপেক্ষা করা। আজ সে ধৃষ্টতাই দেখিয়েছে অপশক্তির ধারকরা।

'জাতির পতাকা এখনো খামচে আছে পুরনো শকুন' কবি রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর এই কবিতার লাইনটি ফের মনে পড়ে যায় জাতীয় পতাকার অবমাননা দেখে। বিজয়ের ৪৯ বছর পরে এসেও লাখো শহীদের রক্তে ভেজা লাল সবুজের পতাকার ওপর এখনো যেন শকুনের কুদৃষ্টি রয়ে গেছে।

নাটোরের গুরুদাসপুরের ‘চক্ষু হাসপাতাল’ একটি বেসরকারি হাসপাতাল। এটি উপজেলা সদরের উপজেলা ভবনের পাশেই অবস্থিত। আজ বুধবার ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। কার্যালয়ের মূল ফটকে জাতীয় পতাকা টাঙানো হয়েছে অশ্লীল ভঙ্গিতে। এভাবে পতাকা টাঙানো জাতীয় পতাকার অবমাননা ছাড়া আর কিছুই নয়। সরকারি বিধি মোতাবেক পতাকা টাঙানোই হচ্ছে না। শুধু চক্ষু হাসপাতালই নয় গুরুদাসপুর সংগীত একাডেমীতেও টাঙানো হয়েছে মোটা বাঁশের অবশিষ্টাংশের সাথে চিকন বাঁশ দিয়ে। গুরুদাসপুরের একমাত্র পাঁচতলা ভবনের নীচ তলায় রুমের ভিতরে ইস্পাতের গ্রিলের সাথে টাঙানো হয়েছে এই জাতীয় পতাকা। এছাড়াও অসংখ্য বেসরকারী সংস্থা, বাসা-বাড়ীসহ অনেক জায়গাতেও অবমাননা করা হয়েছে জাতির গর্ব, জাতির প্রাণ জাতীয় পতাকাকে।

একজন সাংবাদিক এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি হিসেবে ২৬ মার্চে প্রস্তুতি সভায় অনেক বার বলে মৌখিক আশ্বাস পেলেও বাস্তবে কাজ হচ্ছে না। কে শোনে কার কথা?

লেখক

প্রভাষক ও সাংবাদিক