করোনা চিকিৎসায় ম্যালেরিয়া ড্রাগ "ক্লোরোকুইন/হাইড্রোক্সি-ক্লোরোকুইন": আসলেই কি গেইম-চেইঞ্জার?

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাম দিয়েছেন "গেইম-চেইঞ্জার, "আসল নাম "ক্লোরোকুইন" বা "হাইড্রক্সি-ক্লোরোকুইন"। সাথে এজিথ্রোমাইসিন এন্টিবায়োটিক। এটাই নাকি করোনা চিকিৎসার সারপ্রাইজ। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যেহেতু রিকমেন্ড করেছেন, তাই ফুড এন্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) এই ড্রাগ করোনা রোগের ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনেকটা শিথিলতা আরোপ করেছে। প্রেসিডেন্টের সমর্থকদের মধ্যে হৈ হৈ রব। সারা দুনিয়াতেই করোনার প্রতিকারে এই ঔষুধের চাহিদা বেড়ে গিয়ে একাকার।

তার পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশসহ অনেক উন্নয়নশীল দেশেই ক্লোরোকুইন স্টক করা শুরু করল। USA তে ব্যতিক্রম না। শুরু হয়ে গেছে "ক্লোরোকুইন" নিয়ে সুযোগের সদ্ব্যবহার। শুনলাম এ নিয়ে রিসার্চ ফান্ডিংও বাগিয়ে নিচ্ছেন কেউ কেউ। ভ্লাদিমির জেলেঙ্কো নামের নিউইয়র্ক এর এক ভিলেজ ডাক্তারতো এটাকে পুরো মুড়ির মতো ব্যবহারও আরম্ভ করেছেন। মানে, উনি "করোনা রোগী", দিয়ে দাও "ক্লোরোকুইন" আর "এজিথ্রোমাইসিন"। রিপোর্ট খারাপ না — মাইল্ড বা মডারেট রোগীর নাকি কেউ ভালোও হয়েছেন। ফক্স নিউজ নিয়েছেন মোক্ষম সুযোগ, ভিলেজ ডাক্তারকে বানিয়ে দিয়েছেন বিখ্যাত ডাক্তার। ভদ্রলোক এখন ন্যাশনাল টিভিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। নামকরা সব ডাক্তাররা "হা" হয়ে শুধু কাণ্ড দেখছেন।

যাই হোক, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প না হয় দেশ-জনগণের কথা চিন্তা করে পিঠে চাপড় দেয়ার মত আশা দিয়েছেন। কিন্তু ধনকুব পাগলাটে এলোন মাস্ক ( ইলেকট্রিক গাড়ি টেসলার মালিক) ২ মাস আগে থেকে ক্লোরোকুইন-ক্লোরোকুইন করছিলেন কেন? জাদরেল ব্যবসায়ীর যা কাজ, মানে অন্যের দুঃখের ভিতরেও পয়সা বাগানো। সোজা কথায়, শেয়ার বাজার দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেয়া। আর হতে পারে—"যদি লাইগা যায়"— সোজা ফিলান্থোপিক হিরো।

কথা হচ্ছে ট্রাম্প বা এলোন মাস্ক তো সায়েন্টিস্ট না। ব্যবসা বা পলিটিক্স দিয়ে কি আর FDA পারমিশন পাওয়া যায়? তাহলে FDA কিভাবে শিথিলতা দেখালো?

এটি তখনই ঘটে যখন বিশেষ কোনো একটি রোগের চিকিৎসার জন্য ড্রাগ/ঔষুধ থাকে না। যেমন এবারের ক্ষেত্রে করোনা, আগের বার ইবোলা, ইত্যাদি। "ক্লোরোকুইন" ও "এজিথ্রোমাইসিন" অলরেডি বাজারে আছে, তাই এসব ঔষুধ মানুষের জন্য নিরাপদ কিনা এ ধরণের কিছু তথ্য FDA কাছে অলরেডি আছে। যা নেই তা হচ্ছে, ক্লোরোকুইন, কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর বা ভাইরাস জনিত রোগের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হচ্ছে কিনা তা দেখা।

ভাবতে পারেন এফডিএ’র কাছে সে রকম ডাটা বা ইনফরমেশন কি ছিল? নিশ্চিন্তে বলা যায় "না"। কারণ কোভিড-১৯ পৃথিবীর কাছেই নতুন।

তাহলে এফডিএ কোন ভিত্তিতে এই ঔষুধ প্রয়োগ করতে অনুমতি দিচ্ছে? উত্তর হচ্ছে, কিছু সাইন্টিফিক পাবলিকেশন। এসব গবেষণার প্রথম ভিত্তি ল্যাবে মানুষের বা বানরের বিশেষ কিছু সেল বা কোষের উপর ক্লোরোকুইনের প্রয়োগ। চিনের উহানে যখন করোনা প্রাদুর্ভাব, তখন অনেক গবেষক "ল্যাবে" পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন, ক্লোরোকুইন করোনা ইনফেক্টেড সেলকে ভালো করে দিচ্ছে। আমি দেখলাম, আমার অনেক ফেইসবুক বন্ধু এধরণের ২টি সাইন্টিফিক আর্টিকেল শেয়ারও করছেন। এই ২ টি গবেষণার কোনটিই সরাসরি মানুষের উপর পরীক্ষা না।

১. https://www.sciencedirect.com/…/arti…/pii/S0924857920300820

২. https://www.nature.com/articles/s41421-020-0156-0.pdf

একমাত্র ব্যতিক্রম, মার্চ ১৭ তারিখে প্রকাশিত একটি আর্টিকেল, যেখানে ফ্রান্সের এক বিজ্ঞানী সরাসরি মানুষের উপর পরীক্ষা দেখিয়েছেন ক্লোরোকুইন একক ভাবে অনেকটা এবং যুক্তভাবে, এজিথ্রোমাইসিনকে নিয়ে করোনা ইনফেক্টেড রোগীকে ভালো করে দিচ্ছে (নিচে লিংক)। আর এরকম কিছু সাইন্টিফিক আর্টিকেলের উপর ভিত্তি করেই FDA থেকে এ ড্রাগ ব্যবহারের জন্য শিথিলতা দিয়েছেন। আমার বন্ধুদের মাঝেও মিনিমাম ২৫-৩০ জন এই পেপারটি শেয়ারও করেছেন। আমার ধারণা কমপ্লিট পাবলিশ হওয়ার আগেই পৃথিবীতে সর্বোচ্চ শেয়ার হওয়া আর্টিকেল এটি।

**Hydroxychloroquine and azithromycin as a treatment of COVID-19: results of an open-label non-randomized clinical trial

কথা হচ্ছে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় ম্যালেরিয়া জ্বরের ঔষুধ, কুইনিন/কুনাইন/ক্লোরোকুইন ব্যবহার করা যাবে কিনা? আমার উত্তর "না।" সাইন্টিফিক ভাবে বা পোলাইটলি বললে "মে বি 'নো'।"

প্রায় ৪ বছর আগে ল্যাবে আমার ক্লোরোকুইন নিয়ে কাজ করা শুরু । প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, দুটি বাচ্চা পেশেন্ট অজানা এক রোগে আক্রান্ত, ঐ রোগটিকে বুঝা, এবং তাদের চিকিৎসায় ক্লোরোকুইন দেয়া যায় কিনা তা যাচাই করা। এনআইএইচ (NIH) এর ক্লিনিকাল সেন্টারের ড। উইলিয়াম গল ও আমাদের গবেষণাগারের (জোসেফ মিনডেল ল্যাব) যৌথ উদ্যোগে রোগটির কারণ ও প্রতিকার খুঁজে পেতে গবেষণা শুরু করেছিলো।

ড. গলের দলের উদ্দেশ্য ছিল রোগটির ক্লিনিক্যাল বা চিকিৎসা সম্পর্কিত দিকটা দেখা, আর আমাদের দায়িত্ব ছিল, বায়োকেমিস্ট্রি-বায়োফিসিক্স দিয়ে রোগটির কারণ ব্যাখ্যা করা। পৃথিবীতে আমরাই অজানা রোগের ক্ষেত্রে ক্লোরোকুইনের প্রথম ব্যবহারকারী।

যা NIH ডিরেক্টর ডঃ ফ্রান্সিস কলিন্স এর দ্বারা পরিচালিত NIH সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস সেমিনার সিরিজ এ প্রেজেন্টও করা হয়েছিল। এই মুহূর্তে আমেরিকার সবচেয়ে বিশ্বস্ত নাম ডঃ এন্থনি/টনি ফাউচি, যিনি কিনা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর কোভিড-১৯ টীমের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মানুষ, তিনিও সেই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।

https://videocast.nih.gov/summary.asp?Live=28773&bhcp=1 (দয়া করে পুরো সেমিনারটি দেখতে পারেন, বিশেষ করে ৩২-৪০ মিঃ পর্যন্ত দেখুন, সময় না থাকলে ৩৮-৪০ মিঃ)।

কাজের অভিজ্ঞতার আর সাইন্টিফিক জ্ঞানের আলোকেই ক্লোরোকুইন নিয়ে আমার লিখা। কেন আমি করোনার চিকিৎসায় ক্লোরোকুইন ব্যবহার কে না বলছি?

কারণ-১:

এই কারণটি জানতে হলে আমাদের জানতে হবে ম্যালেরিয়া কিভাবে আমাদের আক্রান্ত করে। মশা ম্যালেরিয়ায় "মশা" একটি জীবানুর (প্যারাসাইট) বাহক মাত্র। মশার শরীরে অবস্থিত অতিক্ষুদ্র কৃমি আকৃতির "প্যারাসাইট" মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢুকে যায়। বেঁচে থাকার জন্য এই ক্ষুদ্র প্যারাসাইট মানুষের রক্তের হিমোগ্লোবিন কে ভেঙ্গে দিয়ে হিম ও গ্লোবিন নামের দুটো অংশ কে আলাদা করে ফেলে। এর পর শুধু "গ্লোবিন" কে নিজের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বাঁচে ও বংশবৃদ্ধি করে। আর "হিম" থেকে তৈরী করে বিষাক্ত কম্পাউন্ড “হিমোজোইন”, যাকে প্যারাসাইটটি তার পাকস্থলী থেকে মানুষের রক্তে ছেড়ে দেয়। "হিমোজোইন" এর পরিমাণ মানুষের শরীরে বাড়ার সাথে সাথে জ্বরের প্রকোপও বাড়তে থাকে।

এবার আসি ক্লোরোকুইন ঔষুধটি কিভাবে ম্যালেরিয়ায় কাজ করে? সোজা ভাষায় ক্লোরোকুইন প্যারাসাইট দ্বারা সৃষ্ট “হিম” থেকে হিমোজোইন হতে বাধা দেয় এবং এর ফলে প্যারাসাইট এর পাকস্থলীতে "হিম" জমতে থাকে। একসময় "হিম" এর পরিমান যখন অনেক বেড়ে যায় তখন আর "হিম" এর লোড নিতে না পেরে প্যারাসাইট গুলো মারা যায়।

এখন ভাবতে পারেন করোনা ভাইরাস কি হিমোগ্লোবিনকে খেয়ে বাঁচে নাকি? এতোদিনে নিশ্চই জেনেছেন এই ভাইরাস হিমোগ্লোবিন খায় না। তাহলে, হিম থেকে হিমোজোইন তৈরি হতে বাধা দেয়ার প্রশ্নই আসেনা।

তাহলে কোভিড ইনফেকশনে ক্লোরোকুইন ওষুধ কিভাবে কাজ করে? সোজা ভাষায় এর উত্তর আমাদের জানা নেই। তার মানে আমরা উদ্দেশ্যহীন ভাবে যতই ঔষুধ দেই না কেন, এর কার্যকারীতা নিয়ে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই ।

আমি জানি আপনি ভাবছেন কবিরাজি চিকিৎসায় তো কোনো টার্গেট থাকে না কিন্তু ভালো তো হচ্ছে? এক্ষেত্রেও তো ভালো হতে পারে। হুম, খুবই ভ্যালিড পয়েন্ট? তবে এর ব্যাখ্যা জানতে হলে নিচের কারণ-২, ৩ পড়ুন...

কারণ-২:

ম্যালেরিয়াতে প্রধান সমস্যা হয় উচ্চ মাত্রার জ্বর (১০৪-১০৬ F), সেই সাথে বমি। এ জ্বরের সময় আমাদের শরীর নরমালের চেয়ে বেশি এসিডিক হয়, যা বুঝার একটা উপায় হচ্ছে এই সময় মুখ অতিরিক্ত তেতো হয়ে যায়। সাইন্টিফিক কারণ হচ্ছে, আমাদের শরীর সাময়িক সময়ের জন্য প্রচুর ল্যাকটিক অ্যাসিড (পাইরুভেট-->লেকটেট) তৈরী করে অতিরিক্ত শক্তির যোগান দেয়ার জন্য। যা রোগ প্রতিরোধে কাজ করে।

শরীর এসিডিক না বেসিক এটা বুঝার উপায় হচ্ছে pH স্কেল (H+/প্রোটন এর পরিমানের স্কেল)। pH ৭, খাওয়ার পানির স্বাদ; এর নিচে, ৬.৯৯-->১, এসিডিক বা টক; ৭.০১-->১৪; বেসিক। আমাদের রক্তের pH ৭.৩৫-৭.৪৫, মানে স্লাইটলি বেসিক। জ্বরের সময় ল্যাকটিক অ্যাসিড ও অন্য আরো কারণে রক্তের pH ৭.২০ বা তারও নিচে নেমে আসে বা এডিসিক এর দিকে যেতে থাকে, যাকে বলে এসিডোসিস ইন সিভিয়ার ম্যালেরিয়া।

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/15639735

এসিডোসিসে সমস্যা কি? ধরুন নদীর মিঠা পানিতে যে মাছটি বাঁচে তাকে যদি লবনাক্ত পানিতে নিয়ে যাওয়া হয় তাহলে তার কার্যক্ষমতা অনেকটা কমে যায়। লম্বা সময় মাছটি লবনাক্ত পরিবেশে থাকলে হয়তো মারাই যাবে। ঠিক একই ভাবে জ্বরের কারণে যদি আমাদের শরীরের pH ৭.৩৫ থেকে pH ৭.২০ বা তার নিচে যায়, এর প্রভাবে হাজার হাজার এনজাইমের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম কার্য ক্ষমতা হারায়। যার ফলে শরীর দুর্বল হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, ঔষধ না দিলে এক সময় হয়তো রোগী মারাই যায়।

ক্লোরোকুইন এর আশ্চর্য ক্ষমতা আছে, এই pH কে বেসিক অবস্থায় নিয়ে যেতে (৭.২০-->৭.৩৫), ফলে মানুষের শরীরের এনজাইম গুলো আবার কার্যকর করে তুলে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। অনেকটা মিঠা পানির মাছকে লবনাক্ত পানি থেকে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসার মতোই অবস্থা। https://iai.asm.org/content/85/1/e00586-16

এখন করোনা জনিত রোগে জ্বরের প্রকপ কম, অনেক ক্ষেত্রে নেই বললেই চলে, শাসকষ্টই প্রধান সমস্যা। রক্তের pH ৭.৩৫-৭.৪৫ কাঁছাকাছিই থাকে, সেই অবস্থায় যদি ক্লোরোকুইন দিলে, রক্তের pH ৭.৩৫ বা নরমাল থেকে আরো বেসিক বানায়, মানে pH ৭.৫৫ বা তারও উপরে নিয়ে যায়, উদাহরণ দিয়ে বলা যায়, মিঠে পানির একটি অসুস্থ মাছকে মিঠে পানিতে না রেখে চুনের পানির মধ্যে দেয়া হলে অসুস্থ মাছটি যেমন সুস্থ বোধ করবে না, ঠিক একইভাবে, করোনা জনিত শাসকষ্ট বা রেসপিরেটরি ইনফেকশন দ্বারা আক্রান্ত একটি মানুষকে এ অবস্থায় ক্লোরোকুইন দিলে উল্টো বরং বিপদে ফেলার সম্ভবনাই সবচেয়ে বেশি।

কারণ-৩:

ক্লোরোকুইন তৈরী হয়েছিল ম্যালেরিয়া প্যারাসাইট এর পাকস্থলী/ভ্যাকুয়ালকে টার্গেট করে। কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে আমাদের শরীরেতো প্যারাসাইট নেই, তখন কি হবে? ভ্যাকুয়ালের মতই মানুষের শরীরের প্রত্যেকটি কোষে আছে লাইসোজোম/কোষের পাকস্থলী। প্যারাসাইট ভ্যাকুয়ালের অনুপস্থিতিতে ক্লোরোকুইনের টার্গেট হয়, মানুষের লাইসোজোম। ক্লোরোকুইনের কারণহীন ব্যবহার, কোষের অতিক্ষুদ্র কোষের পাকস্থলী/ লাইসোজোমের ভিতর pH (৪-৫) কে ইমব্যালেন্স করে দেয়, অনেকটা পাকস্থলীতে যেমন অযাচিতভাবে গ্যাস/এসিডিটি থেকে তীব্র অ্যাসিড বা অসহনীয় পর্যায় এসিডিটি বা তীব্র বেস তৈরী করলে যেরকম হবে সে রকম। আর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পরে হার্ট, হাড়, ফুসফুস, ব্রেইন, লিভার, বা চোখের কোষ গুলোর এনজাইম গুলোতে। তারই ফলাফলে, হার্ট, হাড়, ফুসফুস, ব্রেইন, লিভার, বা চোখের কোষগুলো মারা যেতে পারে।

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC2779350/

https://cellandbioscience.biomedcentral.com/…/2045-3701-1-10

এখন চিন্তা করে দেখুন, কোনো হার্ট বা ক্যান্সারের রোগী করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রচন্ড শাসকষ্ট কষ্টে ভুগছে, তাকে দেয়া হলো ক্লোরোকুইন! রোগী সুস্থ হবে, না তার পরিবর্তে শাসকষ্টের সাথে হার্ট এটাকের ঝুঁকি বাড়াবে? উত্তর আপনার কাছেই।

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/30594732

কারণ-৪:

প্রেক্ষাপট চিন্তা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে পেপারটি শেয়ার করছিলেন বা অন্য পাব্লিকেশন, প্রত্যেকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে তাদের দুর্বল পাব্লিকেশনের বা লো ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর পাব্লিকেশনের কারণ কি? অন্যতম একটা কারণ লাইসোজোম সাইন্টিফিক কমিউনিটি। তাদের প্রত্যেকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল কোষের পাকস্থলীতে/লাইসোজোমের উপর ক্লোরোকুইন কোনো ক্ষতি করছে কিনা। কিন্তু তাদের কেউই সদুত্তর দিতে পারে নি।

১. Hydroxychloroquine and azithromycin as a treatment of COVID-19: results of an open-label non-randomized clinical trial

২. https://www.sciencedirect.com/…/arti…/pii/S0924857920300820

৩. https://www.nature.com/articles/s41421-020-0156-0.pdf

অবশ্য নিচের এই ভদ্রলোক তার পাব্লিকেশনে স্বীকার করেছেন ক্লোরোকুইন লাইসোজোমের pH ৪.৫ থেকে ৬ এ নিয়ে আসে।

***https://www.nature.com/articles/s41421-020-0156-0.pdf বলেছেন "CQ (cloroquin) was reported to elevate the pH of lysosome from about 4.5 to 6.5 at 100 μM"

যদি সত্যি সত্যিই ক্লোরোকুইন pH কে ৪.৫ থেকে "৬" করে, তাহলে করোনাজনিত শাসকষ্ট কষ্টের সাথে আরেকটা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছেন, মানে শরীরের হার্ট, লাং, লিভার কোষগুলোকে আরো কর্মহীন করে বিপদ ত্বরান্বিত করছেন।

***তাই, করোনাজনিত রোগে আক্রান্ত থাকলে চিন্তা করে দেখুন, ক্লোরোকুইন খাবেন কিনা।

**আপনি যদি ডাক্তার হয়ে থাকেন ক্লোরোকুইন রোগীর উপর প্রয়োগ করবেন কিনা।**

কারণ উদ্দেশ্যহীন রাস্তায় যতই ঔষুধই দিচ্ছেন না কেন, শরীরের কোষগুলোকে ধ্বংসে আপনি নিজে সাহায্য করছেন।

আমি বিশেষজ্ঞ নই। দয়া করে আমার কথার চেয়ে বিশেষজ্ঞের কথায় গুরুত্ব দিন। পৃথিবীর এ বিষয়ে বড়ো বিশেষজ্ঞদের একজন হচ্ছেন ডঃ ফাউচি, ওনার কাছ থেকে শুনলে হয়তো আপনাকে ডিসিশন নিতে আরেকটু সাহায্য করবে।

"Fauci throws cold water on Trump's declaration that malaria drug chloroquine is a 'game-changer'

মানে হলো ডোনাল্ড ট্রাম্প এর ক্লোরোকুইন নিয়ে কথায় ডঃ ফাউচি পানি ঢেলে দিলেন। বাংলায় বললে, বাড়া ভাতে ছাই। লিংকগুলো দেখুন—

https://abcnews.go.com/…/fauci-throws-cold-water-tru…/story

https://www.cnbc.com/…/coronavirus-fauci-warns-americans-sh

সিডিসির (CDC) কথাও শুনুন—https://emergency.cdc.gov/han/2020/han00431.asp

চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিন।


লেখক

আনোয়ারুল আমিন (Ph.D)

Program Director, NCI

Nationational Institutes of Health (NIH), USA