মৃত জীবকে পুনরায় বাঁচিয়ে তুললেন বিজ্ঞানীরা!

ক্লোনিংয়ের সাহায্যে ঘটল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। আধুনিক বিজ্ঞানের অপ্রতিরোধ্য গতির অনন্য অবদান ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে বিলুপ্ত এক প্রাণীকে বাঁচিয়ে তোলা হয়েছে। ব্ল্যাক-ফুটেড ফেরেট (Black-Footed Ferret) নামের একটি প্রাণীর জীবনে এই অবিশ্বাস্য ঘটনাই নিশ্চিত করেছেন বিজ্ঞানীরা।


জন্মালেই মৃত্যু সুনিশ্চিত, বিশ্বের প্রতিটি জীবকুলের জীবনচক্রই এই নিয়মে সংগঠিত হয়ে আসছে। তবে, বর্তমান দুনিয়ায় বিজ্ঞানের ওপর ভর করে একের পর এক অসম্ভবকে সম্ভব করা হচ্ছে। খুব স্বাভাবিক, সত্যিই কি মৃত জীবকে আবার বাঁচিয়ে তোলা যেতে পারে? বিজ্ঞানের দৌলতে এবার সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গিয়েছে। এক বিলুপ্ত প্রাণীকেই কার্যত আবারও বাঁচিয়ে তুলেছেন বিজ্ঞানীরা।


এই প্রসঙ্গে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, ব্ল্যাক-ফুটেড ফেরেট (Black-Footed Ferret) নামের এই প্রাণীটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। এমতাবস্থায়, US Fish and Wildlife Service, ViaGen, Revive & Restore, Pets & Equine, the Association of Zoos and Aquariums and San Diego Zoo Global-এর গবেষকরা একত্রে ক্লোনিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপন্ন প্রজাতিটিকে বাঁচিয়েছেন। আর এভাবেই কার্যত অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলেছেন তাঁরা। বিশ্বের একাধিক দেশ বহু বছর ধরে এই সংক্রান্ত গবেষণা করে আসছে।তবে, বিপন্ন প্রজাতিকে বাঁচানোর জন্য আমেরিকান বিজ্ঞানীদের এটিই প্রথম প্রচেষ্টা ছিল।


উত্তর আমেরিকায় ফেরেটের একমাত্র প্রজাতি ছিল এই Black-Footed। ১৯৮০-র দশকে বিলুপ্ত হয়ে যায় এটি। যদিও, এর পেছনেও প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী ছিল মানুষই। কারণ, যতই চাষাবাদের এলাকা বাড়ানো হচ্ছিল, ততই এই প্রাণীর সংখ্যা কমে আসতে থাকে। ১৯৮১ সালে, একজন কৃষক তাঁর খামারে এই Black-Footed Ferret দেখেছিলেন। তারপরেই পরিবেশপ্রেমীরা তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে সেগুলির প্রজনন করান। যেগুলির মধ্যে মাত্র ৭ টি ফেরেট প্রজনন করতে সক্ষম হয়েছিল। আজ এই প্রজাতির মাত্র ৬৫০ জন সদস্য জীবিত যারা দু’টি ভিন্ন সুরক্ষিত স্থানে বাস করছে।


সম্প্রতি, বিজ্ঞানীরা Black-Footed Ferret-এর একই বংশধরের টিস্যু খুঁজে পেয়েছেন এবং এটি থেকে একটি ক্লোন তৈরি করেছেন। যার নাম দেওয়া হয়েছে এলিজাবেথ অ্যান (Elizabeth Ann)। মূলত, ১৯৯৬ সালে ডলি ভেড়াকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য যে প্রক্রিয়াটি ব্যবহার করা হয়েছিল, এই ফেরেটও একই প্রক্রিয়ার দ্বারা জীবিত হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই ক্লোনিং প্রক্রিয়াটি ২০১৩ সালে শুরু হয়েছিল এবং সম্প্রতি ক্লোন করা ফেরেট এলিজাবেথ অ্যানের জন্ম হয়। তারপর থেকে সেটি কলোরাডো সেন্টারের কর্মীদের তত্বাবধানে রয়েছে।