বিশ্বকাপের ফ্লপ একাদশ

নেক তারকার দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা দেশ। আশা ছিল এবার ভালো কিছুই উপহার দেবেন। কিন্তু ঘটেছে ঠিক উল্টো। বিশ্বকাপে প্রমাণ করতে পারেননি নিজেদের। প্রায় প্রত্যেকটি দলেই এমন কিছু তারকা আছেন। তবে তাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে বাজে পারফর্ম করা তারকাদের নিয়ে সাজানো হয়েছে এই একাদশ। দেখে নিন একাদশে আছেন যারা।

তামিম ইকবাল: বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও অন্তত সেমিফাইনালে খেলবে বাংলাদেশ সেই আশা ছিল অনেকের। প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ওপেনার তামিম ইকবাল। ভাবা হয়েছিল এই ব্যাটসম্যানের হাত ধরেই বাংলাদেশ ইতিহাস গড়বে। অনেক ক্রিকেট বোদ্ধা তো এই তারকাকে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহদের মধ্যে রেখেছেন।

তবে সেই আশার ছিটেফোটাও পূরণ করতে পারেননি তামিম। ৮ ম্যাচ খেলে ২৯.৩৮ গড়ে রান করেছেন মাত্র ২৩৫। স্ট্রাইকরেট ছিল মাত্র ৭১.৬৫। দুইটি ফিফটি মারলেও দলকে জেতাতে কোনো অবদানই রাখতে পারেননি। ফলাফল টাইগারদের বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে আটে থেকে।

মার্টিন গাপটিল: এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা ওপেনার তিনি। ছিল অভিজ্ঞতাও। তবে দলের হয়ে তার পারফর্ম খুবই হতাশার। যদিও কিউইরা উঠে গেছে ফাইনালে। তবে সেটা কেন উইলিয়ামসনের কারণে। ৯ ম্যাচে ব্যাট হাতে গাপটিল করেছেন মাত্র ১৬৭ রান। তাই তামিমের সঙ্গী হচ্ছেন তিনিই।

ফখর জামান: সাধারণ ওপেনিং করে থাকেন ফখর। তবে ক্যারিয়ারের শুরুতে ছিলেন তিন নম্বর ব্যাটসম্যান। পাকিস্তানের হয়ে এবার তার রান মাত্র ১৮৬। খেলেছেন আটটি ম্যাচ। তবে তাকে নিয়ে বড় আশাই ছিল পাকিস্তানের। অনেকে ফখরকে বর্তমান সময়ের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন মানেন। তাই ফ্লপ একাদশের তিনে রাখা হয়েছে তাকে।

জস বাটলার: ইংল্যান্ড চলে গেছে ফাইনালে। তবে এতে কোনো ভূমিকাই রাখতে পারেননি জস বাটলার। ৮ ম্যাচে ২৫৩ রান করা এ উইকেটকিপারের কাছে অনেক প্রত্যাশাই ছিল ইংলিশদের। তবে প্রত্যাশা পূরণে তিনি ব্যর্থ। সে জন্য ফ্লপ একাদশেই উইকেটকিপার হিসেবে থাকছেন তিনিই।

শিমরন হেটমায়ার: তাকে বলা হয় অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা। তবে বিশ্বকাপে প্রতিভার ঝলক দেখাতে ব্যর্থ এ ক্যারিবিয়ান। একটি সেঞ্চুরি মারলেও গোটা বিশ্বকাপে তার রান মাত্র ২৫৭। আট ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তাই তাকে রাখা হয়েছে পাঁচ নম্বরে।

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল: শেষদিকে দ্রুত রান তোলায় তার জুড়ি মেলা ভার। বিশ্বকাপের আগে ছিলেন দারুণ ফর্মে। তবে বিশ্বকাপে এসেই কী যেন হয়ে যায় এই অস্ট্রেলিয়ানের। ২২.২২ গড়ে ১০ ম্যাচে করেছেন মাত্র ১৭৭ রান। যদিও স্ট্রাইরেট ছিল ১৫০। তবে দলকে কিছু এনে দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ তিনি।

আন্দ্রে রাসেল: আইপিএলে তার যেই ফর্ম ছিল তাতে সব দলই ভয় পেয়েছিল কীভাবে তাকে আটকানো যায়। তবে তাকে আটকাতে কোনো কষ্টই হয়নি প্রতিপক্ষ বোলারদের। ৩ ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে করেছেন ৩৬ রান। বল হাতে নিয়েছেন মাত্র ২ উইকেট। তাই পেস অলরাউন্ডার হিসেবে তাকে নেয়া হয়েছে একাদশে।

রাশিদ খান: বর্তমানে বিশ্বের সেরা স্পিনারদের একজন রাশিদ খান। আফগানিস্তান তাকে ঘিরে স্বপ্ন দেখেছিল ভালো কিছু করার। তবে বলতে গেলে পুরোপুরি ব্যর্থ তিনি। ৯ ম্যাচে ৮৬ ওভার বল করে উইকেট নিয়েছেন মাত্র চারটি। ব্যাট হাতেও দেখাতে পারেননি বিশেষ কিছু। যদিও বিশ্বকাপের আগে অলরাউন্ডার র‌্যাংকিংয়ের দুইয়ে ছিলেন তিনি।

কাগিসো রাবাদা: সারা জাগানো পেস বোলার। এ বারের বিশ্বকাপে অনেকেরই আশা ছিল তাঁকে নিয়ে। কিন্তু নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকাও পারেনি নকআউট পর্বে যেতে। বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচে নিয়েছেন মাত্র ১১ উইকেট। মোট ৭৮ ওভার বল করে ৩৯৭ রান দিয়েছেন।

মাশরাফি বিন মুর্তজা: ৮ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন মাত্র একটি উইকেট, দিয়েছেন ৩৬১ রান। অনেক ম্যাচেই নিজের দশ ওভার কোটা শেষ করেননি। অথচ শুরুতে বল করতে এসে দিয়েছেন অনেক রান। পাঁচ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে করেছেন ৩৪ রান।

হাসান আলি: বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা পেসার তিনি। তাকে ঘিরে অনেক পরিকল্পনাই ছিল পাকিস্তানের। তবে তার পারফর্ম এতটাই খারাপ ছিল যে বাধ্য হয়ে তাকে একাদশ থেকে বাদ দিয়ে দেয়া পাকিস্তান। যদিও শুরুতে তিনি খেলেছেন চারটি ম্যাচ। তবে এখান থেকে নিতে পেরেছেন মাত্র দুইটি উইকেট।