যেমন ছিল রোডসের বাংলাদেশ অধ্যায়

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের হতশ্রী পারফর্মেন্সের পর প্রধান কোচ স্টিভ রোডসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বিসিবি জানিয়েছে, দুই পক্ষের সম্মতিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ায় হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত মেয়াদ ছিল এই ইংলিশ কোচের। তবে চুক্তির মেয়াদ ফুরনোর আগেই চাকরি হারিয়েছেন তিনি।

গত বছর ৭ জুন রোডসকে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ করে বিসিবি। এরপর নতুন কোচের অধীনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সফরের শুরুতে প্রথম টেস্টে এক ইনিংসে টাইগাররা গুটিয়ে যায় মাত্র ৪৩ রানে। টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর ওয়ানডে সিরিজে অবশ্য ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ক্যারিবিয়ানদের ২-১ ব্যবধানে হারায় মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। এরপর টি-টোয়েটি সিরিজে ২-১ ব্যবধানে হারে সাকিব আল হাসানের দল। আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপেও বাংলাদেশ ভালো পারফর্মেন্স করে। ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও ভারতের বিপক্ষে হেরে শিরোপা জয় করা হয়নি টাইগারদের।

রোডসের অধীনে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সাফল্য বিশ্বকাপের আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জয়। এই সিরিজে বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ছাড়াও ছিল স্বাগতিক আয়ারল্যান্ড। ত্রিদেশীয় সিরিজের পর বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ দারুণ শুরু করেছিল।

প্রথম ম্যাচেই দক্ষিন আফ্রিকাকে হারায় মাশরাফিরা। এরপর আফগানিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। ৯ ম্যাচে মাত্র ৩ জয়ের ফলে সেমিফাইনালে খেলা হয়নি বাংলাদেশের। এই ব্যর্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত চাকরি হারাতে হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান কোচ রোডসকে।

সব মিলিয়ে রোডসের অধীনে ৮টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ৩টিতে জয় পেয়েছে টাইগাররা। বাকি পাঁচটি ম্যাচেই হেরেছে সাকিব আল হাসান-মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। এই ইংলিশম্যান সবচেয়ে বেশি সফল হয়েছে ওয়েনডেতে।

তিনি বাংলাদেশের কোচ থাকাকালীন ৩০টি ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১৭টি ম্যাচেই জয় পেয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। ১৩টি ম্যাচে হেরেছে তাঁরা। টি-টোয়েন্টিতে তাঁর সাফল্যের হার পঞ্চাশ শতাংশ। ৬ ম্যাচ খেলে তিনটিতে জয় এবং তিনটিতে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ।