একজন সাকিব না খেলায়!

সাকিব আল হাসান বাংলাদেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা বোধয় বুঝে গেছে সবাই। গোটা বিশ্বকাপে ব্যাটে বলে বলতে গেলে বাংলাদেশের হয়ে একাই লড়াই চালিয়েছেন তিনি। ব্যাটে বলে বাংলাদেশের যে বেহাল দশা সেটা তার জন্যই বোঝা যায়নি। অবশ্য বিশ্বকাপে মুশফিকুর রহিমও অসাধারণ পারফর্ম করেছেন। সাকিবকে দিয়েছেন যোগ্য সঙ্গও।

তবে শ্রীলঙ্কা সফরে দলে নেই সাকিব। দীর্ঘ আড়াই মাসের ক্লান্তি কাটাতে আছেন ছুটিতে। তাই তাকে ছাড়াই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলপছে বাংলাদেশ। 
সিরিজের তিনটি ম্যাচ ম্যাচেই টাইগাররা নাস্তানাবুদ লঙ্কানদের কাছে। হয়েছে হোয়াইটওয়াশ।

প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৩১৪ রান তুলেছিল লঙ্কানরা। বাংলাদেশ উইকেট নিতে পেরেছে মাত্র আটটি। 
জবাবে ব্য্যাট করতে নেমে ৩৯ রানেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। মুশফিক ও সাব্বিরের ফিফটিতে শেষ পর্যন্ত টাইগাররা থামে ২২৩ রানে।

পরের ম্যাচে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ। সবকটি উইকেট হারিয়ে তারা তুলে ২৩৮ রান। সর্বোচ্চ ৯৮ মুশফিক আর সাত নম্বর ব্যাটসম্যান মিরাজ করেন ৪৩ রান। বোঝাই যাচ্ছে বাকিরা কী করতে পেরেছেন। এই টার্গেট ৩১ বল হাতে রেখেই পূরণ করে লঙ্কানরা। তাদের যায় মাত্র ৩ উইকেট।

পরের ম্যাচে আগে ব্যাট করে লঙ্কানরা তুলে ২৯৪ রান। জবাবে বাংলাদেশ অলআউট হয় ১৭২ রানে। সৌম্য ৬৯ আর তাইজুল ৩৯ রান করেন।

বিশ্বকাপে সাকিব খেলেছেন ওয়ান ডাউনে। ৮ ম্যাচে করেছেন দুইটি সেঞ্চুরি আর পাঁচটি হাফসেঞ্চুরিতে ৬০৬ রান। একদিনই শুরু তিনি সর্বনিম্ন ৪২ রান করেছেন। এছাড়া ৪ শতাধিক রান আছে চারে খেলা মুশফিকের। বাকিদের অবস্থা ছিল খুবই নাজুক। তামিম ২৬৬ আর রিয়াদ করেন ২৪৬ রান। এই থেকেই বোঝা যাচ্ছে সাকিবের জন্যই বাংলাদেশ টিকে ছিল লড়াইয়ে।

সাকিবহীন বাংলাদেশকে এবার টেনে নিয়েছেন মুশফিক। ৩ ম্যাচে তার রান ১৭৩। এরপর কেউই করতে পারেননি ১০০ রান। সাকিবকে ছাড়া বাংলাদেশ কতটা অসহায় সেটা এই সিরিজেই প্রমাণ হয়েছে।

অন্যদিকে বোলিংয়েও প্রথম ম্যাচে সুবিধা করতে পারেনি টাইগাররা ৷ বিশ্বকাপের মতো ফিল্ডিংয়েও ব্যর্থ ছিলো বাংলাদেশ। আবার, অভিজ্ঞতার অভাবে সঠিক সময়ে সঠিক বোলারকে আনতে ব্যর্থ হন তামিম।

ফলে পঞ্চপান্ডব পরবর্তি বাংলাদেশকে নিয়ে আবারো আশঙ্কার ধ্বনি উঠছে।