১৩ বছর পর রিয়ালের হার, শীর্ষে বার্সা

এই মৌসুম দিয়েই ছয় বছর পর লা লিগায় ফিরেছিল রিয়াল মায়োরকা। রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ছয় হোম ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি রিয়াল মায়োরকা। ২০০৬ সালে শেষ যেবার নিজেদের মাঠ সান মসে রিয়ালকে হারিয়েছিল মায়োরকা, তখন রিয়ালের একাদশে ছিলেন জিনেদিন জিদান। 

১৩ বছর পর রিয়ালের ম্যানেজার হয়ে মায়োরকায় আসলেন জিদান, কিন্তু তাকে বরণ করে নিতে হল ২০০৬-এর ভাগ্যই। রিয়ালকে ১-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছে মায়োরকা। বার্সেলোনা, এইবারকে হারিয়ে দেওয়ায় টেবিলের শীর্ষস্থান থেকে দুইয়ে নেমে গেল জিদানের দল।

ইনজুরির কারণে মায়োরকার বিপক্ষে একাধিক পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছিলেন রিয়াল ম্যানেজার জিনেদিন জিদান। টনি ক্রুস, গ্যারেথ বেল, লুকা মদ্রিচদের সবাই পড়েছেন ইনজুরিতে, বিশ্রামে ছিলেন দানি কারভাহাল, রাফায়েল ভারান। নিজের চতুর্থ সন্তানের জন্মের সময় পরিবারের সাথে থাকায় এডেন হ্যাজার্ডকেও দলে রাখতে পারেননি জিদান। 

একাদশে এসেছিলেন আলভারো ওদ্রিওজোলা, এডার মিলিতাও, ইস্কো, হামেস রদ্রিগেজ এবং লুকা ইয়োভিচরা। খর্বশক্তির রিয়ালকে ম্যাচে থিতুই হতে দেয়নি মায়োরকা, ৭ মিনিটেই লিড নেয় তারা।

পাল্টা আক্রমণে সতীর্থের কাছ থেকে বল পেয়ে দ্রুত গতিতে ডি-বক্সে ঢুকে বুলেট গতির আড়াআড়ি শটে জালে বল জড়ান মায়োরকার লাগো জুনিয়র। তার এই গোলই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।

করিম বেনজেমার নৈপুণ্যে ম্যাচে প্রায় সমতা ফিরিয়ে বসেছিল রিয়াল। কিন্তু ফরাসি এই স্ট্রাইকারের জোরালো শটের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্রসবার।

ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে রাইট-ব্যাক ওদ্রিওসোলা লাল-কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়া হলে দশজনের দলে পরিণত হয় রিয়াল। বাকি সময় একজন কম নিয়ে খেললেও চেষ্টার কমতি ছিল না দলটির। কিন্তু হার এড়ানো যায়নি।

রিয়ালের বিপক্ষে ২০০৯ সালের পর এটাই মায়োরকার প্রথম জয়। স্পেনের সবচেয়ে সফল দলটির বিপক্ষে লিগে ২০০৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে জয় পেল দলটি।

এই হারে শীর্ষস্থান থেকে দ্বিতীয়স্থানে অবনমন হয়েছে রিয়ালের। নয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও তিন ড্রয়ে দলটির পয়েন্ট এখন ১৮।

রিয়াল হারায় তাদের টপকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে দিনের শুরুর ম্যাচে এইবারকে ৩-০ গোলে হারানো বার্সেলোনা। নয় ম্যাচে ছয় জয় ও এক ড্রয়ে লিগের গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্ট এখন ১৯।