সাত মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড বার্সেলোনা

ম্যাচের ঘন্টাখানেক পেরিয়ে যাওয়ার সময় লেভান্তের মাঠে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। পুরো ম্যাচে লেভান্তে সতর্কবার্তা দিয়ে যাচ্ছিল রক্ষণকে, কিন্তু সতর্ক হয়নি বার্সা। ৬১ থেকে ৬৭ মিনিটে এর পর তাই ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে বার্সা। ছয় মিনিটের ব্যবধানে বার্সা গুণে গুণে গোল হজম করেছে ৩টি। সিউদাদ দে ভ্যালেন্সিয়ায় দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনে বার্সাকে এর পর লেভান্তে হারিয়ে দিয়েছে ৩-১ ব্যবধানে।     

৩৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে লিওনেল মেসি এগিয়ে নিয়েছিলেন দলকে। প্রথমার্ধে  বল পজেশন নিয়ন্ত্রণ করলেও গোলের সামনে ধুঁকতে হচ্ছিল বার্সাকে। বার্সার কাজটা একটু সহজ করে দিয়েছিলেন দিয়েছিলেন হোর্হে মিরামন। নেলসন সেমেদোকে বক্সের ভেতর ফাউল করে বসেন তিনি। এগিয়ে গেলেও বিরতির আগেই লুইস সুয়ারেজকে ইনজুরির কারণে হারিয়ে ফেলায় কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়তে হয় এর্নেস্তো ভালভার্দে। অ্যান্টোয়ান গ্রিযমান ও মেসির সঙ্গে বদলি হিসেবে পরে যোগ দেন কার্লোস পেরেজ। কিন্তু এর পর আক্রমণে একেবারেই সাদামাটা হয়ে যায় বার্সার চেহারা।  

দ্বিতীয়ার্ধে আরও গুছিয়ে খেলে বার্সাকে হতাশ করে যাচ্ছিল লেভান্তে। পয়েন্ট টেবিলের ১০ এ থাকা লেভান্তে এরপর চমকে দিয়েছে বার্সাকে। নিজের অর্ধ থেকে বল ক্লিয়ার করতে বার্সা ব্যর্থ হওয়ার পর বক্সের ভেতর বল পেয়ে যান হোর্হে ক্যাম্পানিয়া। এর দুই মিনিট পর আবার গোল করে বসে লেভান্তে। এবার বোর্হা মায়োরালকে পাস বাড়ান ক্যাম্পানিয়া। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে খেলতে আসা মায়োরাল এর পর জোরালো শটে আরও একবার বার্সাকে স্তব্ধ করে দেন গোল করে। মার্ক আন্দ্রে টের স্টেগান অবশ্য আরেকটু ভালো করতে পারতেন হয়ত, সেভ করতে গিয়ে নাগাল পেতে পেতেও পাননি স্টেগান। বল তার হাতে লেগেই পরিণত হয় গোলে।

বার্সার বিপক্ষে এক গোলের লিড হেলায় হারিয়ে ফেলা যায়। আর কোনো ঝুঁকি না নিয়ে বার্সাকে এর পর রক্ষণেই চেপে ধরে ধরে লেভান্তে। গোল হওয়াটা সময়ের ব্যাপারই ছিল। লিড হারিয়ে হারতে বসা বার্সা অসহায়ের মতো আরও একবার গোল হজম করে বসে ৬৭ মিনিটে। নেয়ামিয়া রাদোজা বক্সের বাইরে থেকে শট নিয়েছিলেন। শট বরাবরই ছিলেন  টের স্টেগান, কিন্তু তার সামনে থাকা বদলি  হয়ে মাঠে নামা সার্জিও বুস্কেটস শট ব্লক করতে গিয়ে ব্যর্থ হন। স্টেগানকে অসহায় বানিয়ে গোল পেয়ে যান রাদোজা।

মেসি অবশ্য গ্রিযমানের সঙ্গে ওয়ান টু করে বক্সের ভেতর ঢুকে এক গোল শোধ করে দিয়েছিলেন। তবে ভিএআরের সিদ্ধান্তে ওই গোলও বাতিল হয়ে গেলে আর ম্যাচ ফেরার লড়াইটাই শুরু করা হয়নি বার্সার। শেষদিকে বরং লেভান্তে আরেকটু হলে ব্যবধান বাড়িয়ে নিত আরও। কিন্তু সুবর্ন এক সুযোগ হাতছাড়া করে তারা। অবশ্য তাতে লেভান্তের দারুণ জয়ের উদযাপনে ভাটা পড়েনি এতোটুকুও।