দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ডর্টমুন্ডের নাটকীয় জয়

সান সিরোতে ইন্টার মিলানের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। নিজেদের মাঠ সিগনাল ইদুনা পার্কেও প্রথমার্ধে একই ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েছিল তারা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনে ইন্টারকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দিল ডর্টমুন্ড। ‘এফ’ গ্রুপে ৭ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠে আসল তারা, ৪ পয়েন্ট নিয়ে তিন-এ থাকল ‘নেরাজ্জুরি’রা। বার্সেলোনা, ডর্টমুন্ড আর ইন্টারের ত্রিমুখী লড়াইটা জমে উঠল তাই আরেক প্রস্থ।

ডর্টমুন্ডকে ইতালিতে হারালেও হতাশাজনক সাম্প্রতিক অ্যাওয়ে ফর্ম নিয়েই সিগনাল ইদুনা পার্কে গিয়েছিল ইন্টার। জার্মানিতে নিজেদের শেষ তিন ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি তারা, প্রতিপক্ষের মাঠে শেষ ১৩ ইউরোপিয়ান ম্যাচে মাত্র দু’বার জিতেছিল ইন্টার। তবে ডর্টমুন্ডের মাঠে ম্যাচের শুরুতেই ইতিহাস বদলে ফেলারই ইঙ্গিত দিচ্ছিল আন্তোনিও কন্তের দল।

সান সিরোতে তার গোলেই ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে লিড নিয়েছিল ইন্টার। এবার অ্যাওয়ে ম্যাচেও কন্তের দলকে লিড এনে দেন লাউতারো মার্টিনেজ। ক্রিশ্চিয়ান বিরাঘির লম্বা পাস ডর্টমুন্ড ডিফেন্ডার আকাঞ্জি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভুল করলে ডিবক্সে ঢুকে পড়েন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ডর্টমুন্ড গোলরক্ষক রোমান বুর্কিকে পরাস্ত করেন তিনি। শুরুতেই লিড নিয়ে ম্যাচের দখল নিজেদের করে নেয় ইন্টার। আক্রমণে লুকাকু-লাউতারোদের আটকাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন হামেলস-আকাঞ্জিরাও। ৪০ মিনিটে ব্যবধানও দ্বিগুণ করেছে তারা।

প্রতি-আক্রমণে বাঁ-প্রান্ত থেকে দুর্দান্ত লম্বা পাসে আন্তোনিও কান্দ্রেভাকে খুঁজে নেন মার্টিনেজ। কান্দ্রেভার মাপা মাইনাসে গোল করেন মাথিয়াস ভেসিনো। প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাচে ফেরার সুযোগ তৈরি করেছিল ডর্টমুন্ড, কিন্তু ইন্টার গোলরক্ষক সামির হান্দানোভিচ ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ’ থেকে ফিরিয়ে দিয়েছেন জেডন সানচোকে। প্রথমার্ধের শেষদিকে আক্রমণে ছন্দ খুঁজে পাওয়া ডর্টমুন্ড ম্যাচে ফেরে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মারিও গোটজের ক্রস থেকে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান আশরাফ হাকিমি। গোল হজম করার পর থেকে আক্রমণের চেয়ে রক্ষণে নজর দেয় ইন্টার। কিন্তু তাতে অবশ্য লাভ হয়নি খুব একটা। ইতালিতে ডর্টমুন্ডের আক্রমণে পাকো আলকাসেরের অনুপস্থিতির কথা নিজেই স্বীকার করেছিল ফাভ্রে। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা আলকাসেরকে ৬৪ মিনিটে নামিয়ে দেন তিনি,  আলকাসের ম্যানেজারের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন সাথে সাথেই।

নেমেই দারুণ পাসে জুলিয়ান ব্রান্ডটকে খুঁজে নেন আলকাসের, হান্দানোভিচকে পরাস্ত করতে ভুল করেননি ব্রান্ডট। আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা ডর্টমুন্ড প্রত্যাবর্তনও পূরণ করে দ্বিতীয়ার্ধে। সানচোর চমৎকার থ্রু পাস থেকে ডানপ্রান্তে জোরাল শটে ব্যবধান ৩-২ করেন হাকিমি। দ্বিতীয়ার্ধের পুরোটা সময় রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলা ইন্টার বাকি সময় আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। উল্টো প্রতি-আক্রমণে জয় নিশ্চিত করার সুযোগ পেয়েও কাজে আর লাগাতে পারেননি আলকাসেররা।

শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেজন্য ভুগতে হয়নি ফাভ্রের দলকে। ‘এফ’ গ্রুপে নিজেদের পরের ম্যাচ খেলতে ন্যু ক্যাম্পে যাবে ডর্টমুন্ড। বার্সার সাম্প্রতিক ফর্মের সাথে ডর্টমুন্ডের আক্রমণাত্মক ফুটবল- স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নদের মাঠে হয়তো ফেভারিট থাকবে জার্মানরাই। ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার পথটা কঠিনই হয়ে পড়ল ইন্টারের জন্য। শেষ দুই ম্যাচ শুধু জিতলেই হবে কন্তের দলকে, অপেক্ষায় থাকতে হবে ডর্টমুন্ড এবং বার্সার ফলাফল তাদের পক্ষে যাওয়ার জন্যও।