হঠাৎ ধস, বিপাকে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি মোটেই। প্রথমেই চলে যায় ৩ উইকেট। তবে এরপর প্রতিরোধ গড়েন মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। তবে বাংলাদেশ অধিনায়কের বিদায়ের পরই হঠাৎ ধস নামে ইনিংসে।

শুরু থেকেই ধুঁকছিলেন ইমরুল কায়েস। দলীয় ১২ রানেই ফিরতে হলো তাকে। উমেশ যাদবের ওভারের বলে খোঁচা মেরে  থার্ড স্লিপে অজিঙ্কা রাহাকে ক্যাচ দিয়ে বসেন ইমরুল (৬)।

দলীয় ১২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ইশান্ত শর্মার করা পরের ওভারের শেষ বলে ফেরেন অপর ওপেনার সাদমান ইসলাম। স্যুইং করা বলটি ঠিকমতো খেলতে না পারায় উইকেটকিপার ঋদ্ধিমান শাহার তালুবন্দি হতে হলো তাকে। এরপর দ্রুত বিদায় নিলেন মোহাম্মদ মিথুনও। দলকে বিপদে ফেলে ১৩ রান করেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি।

তবে এরপর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। যদিও তাদের তিনটি ক্যাচ মিস হয়েছে। তবে তাদের জুটিতে আসে ৬৮ রান। অশ্বিনের করা বল মুমিনুল ফ্লাইট না বুঝেই ছেড়ে দিলে ৯৯ রানের মাথায় ভাঙে এই জুটি।

৮০ বলে ৩৭ রান করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৯৯ রানে মুমিনুল আউট হওয়ার পর মুশফিকের সঙ্গে জুটি বাধেন তার ভায়রা ভাই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু ১৬ রানের জুটি গড়ার পর বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য হন তারা দু’জন। মূলতঃ রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মিডল স্ট্যাম্পের ওপর থাকা বলতে সুইপ করতে যান মাহমুদউল্লাহ। কিন্তু বল ব্যাটে লাগেনি। সরাসরি বোল্ড হয়ে যান তিনি।

এরপর মাঠে আসেন লিটন দাস। তাকে নিয়ে ভালোই এগুচ্ছিলেন মুশফিক। তবে বিধি বাম। ৪৩ রানের মাথায় মোহাম্মদ শামির বলে বোল্ড হন তিনি। পরের বলেই ডাক মেরে বিদায় নেন মেহেদি মিরাজ। তাতে ১৪০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে চা বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

এর আগে ইন্দোরে ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ অধিনায়ক মমিনুল হক।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইন্দোরের হলকার স্টেডিয়ামের উইকেট থেকে পেসাররা যথেষ্ট বাউন্স পেয়ে থাকেন। তার ওপর ম্যাচের আগের দিনও উইকেটে ঘাস দেখা গেছে। তাই এখানে পেসাররা বাড়তি সুবিধাই পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। অথচ একাদশেই ঠাঁই পাননি কাটারমাস্টার। তার জায়গায় টেস্ট একাদশে ডাক পেয়েছেন ডানহাতি পেসার এবাদত হোসেন।

তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেকে মোটেও মেলে ধরতে পারেননি মোস্তাফিজ। ম্যাচ তিনটিতে একটি উইকেটও পাননি তিনি। সেই ব্যর্থতাই টেস্ট একাদশ থেকে ছিটকে দিল বাঁহাতি পেসারকে।

ইন্দোর টেস্টের জন্য সাত ব্যাটসম্যান ও চার বোলার নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। একাদশে জায়গা পেয়েছেন টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুন। আর ওপেনিংয়ে সাদমান ইসলামের সঙ্গে ওপেন করবেন অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েস।

বোলিং আক্রমণে আছেন দুই পেসার ও দুই স্পিনার। পেস আক্রমণে ইবাদত হোসেনের সঙ্গে আছেন আবু জায়েদ। স্পিন আক্রমণে আছেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ।

বাংলাদেশ একাদশ: সাদমান ইসলাম, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, মুমিনুল হক (অধিনায়ক), মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস (উইকেটরক্ষক), মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী ও এবাদত হোসেন।

ভারত একাদশ: বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), রোহিত শর্মা, মায়াঙ্ক আগারওয়াল, চেতেশ্বর পুজারা, আজিঙ্কা রাহানে, রবীন্দ্র জাদেজা, ঋদ্ধিমান সাহা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ইশান্ত শর্মা, মোহাম্মদ স্যামি, উমেশ যাদব।