১২ ব্যাটসম্যান মিলেও লজ্জা ঢাকতে পারল না

গোলাপি বলের ঐতিহাসিক টেস্টে লজ্জার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। ১২ ব্যাটসম্যান ব্যাট করে তুলেছে মাত্র ১০৬ রান। যা কিনা ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন রান।

ইডেনে দিবা-রাত্রির টেস্টে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। তবে শুরুটা একদমই ভালো হয়নি। ১৭ রানের মাথাতেই হারিয়ে বসে ৩ উইকেট। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসের পর দ্বিতীয় টেস্টেও ব্যর্থ ইমরুল কায়েস। এই বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান আজ ফিরেছেন মাত্র ৪ রানে। ১৫ বলে এই রান করেন তিনি।

ইশান্ত শর্মার করা সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন তিনি। যদিও রিভিউ নিয়েছিলেন। তবে তাতে শেষ রক্ষা হয়নি।

এর আগেও ভারত একটি রিভিউ নেয় তার বিরুদ্ধে। তবে তাতে দেখা যায় ব্যাট স্পর্শ করেনি বল। এরপর মুমিনুল হকের বিরুদ্ধেও একটি রিভিউ নেয় ভারত। তাতেও দেখা যায় বল আর ব্যাটের কোনো সংযোগ হয়নি।

তবে এতকিছুর পরও ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। উমেশ যাদবের করা ১১তম ওভারে স্লিপে দাঁড়ানো রোহিত শর্মাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৭ বল খেলেও কোনো রান করতে পারেননি। এইকই ওভারে বোল্ড হয়ে সাজঘরে যান মোহাম্মদ মিথুন। তিনিও মেরেছেন ডাক।

এরপর ক্রিজে আসেন মুশফিকুর রহিম। তবে তিনিও টিকে থাকতে ব্যর্থ। ৪ বল খেলে ০ রানে মোহাম্মদ শামির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন সাজঘরে। কিছুক্ষণ পর সাজঘরে ফেরেন দারুণ খেলতে থাকা সাদমান ইসলামও।

উমেশ যাদবের বলে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৫২ বলে ২৯ রান করেন তিনি। এরপর চেষ্টা প্রতিরোধের। তবে লিটন দাস সাবলীল ব্যাটিং করলেও ধুকছিলেন রিয়াদ। সেটাই কাল হলো। ইশান্তের করা বলে মারতে গেলেন খোঁচা। ব্যস ক্যাচ চলে গেল সাহার হাতে।

তবে লিটনের ব্যাটে কিছুটা আশার আলো দেখছিল টাইগাররা। সেটাও নিভে যায় ২২তম ওভারে। ইশান্ত শর্মার ওই ওভারে মাথায় চোট পান লিটন। এরপর আর ব্যাট করতে পারেননি। তার আগে ২৭ বলে করেন ২৪ রান।

এরপর দলীয় ৮২ রানের মাথায় ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন এবাদত হোসেন। লিটনের পরিবর্তে ব্যাট করতে আসা মিরাজ করেন ৮ রান। শেষ দিকে নাইমের ১৯ রানের সুবাদে ১০০ পার করলেও লজ্জার হাত থেকে রক্ষা হয়নি। বাংলাদেশ আলআউট হয় ১০৬ রানে। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর এটিই। এর আগের সর্বনিম্ন ছিল ১৫০ রান।

সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন সাদমান ইসলাম। লিটন দাস ২৪ আর নাইম হোসেন করেন ১৯ রান।

১২ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন ইশান্ত শর্মা। উমেশ যাদব তিনটি আর মোহাম্মদ শামি নেন দুইটি উইকেট।