আমিরের তাণ্ডবে ফাইনালে খুলনা

বঙ্গবন্ধু বিপিএলে রাজশাহীকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে মুশফিকুর রহিমের খুলনা টাইগার্স। ম্যাচে পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির একাই গুঁড়িয়ে দেন রাজশাহী রয়্যালসকে। দলকে ফাইনালে নেওয়ার পথে বিপিএলে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড গড়লেন আমির। পাকিস্তানের বাঁহাতি এই বোলার ১৭ রানে নেন ৬ উইকেট। বিপিএলে এই প্রথম ৬ উইকেট পেল কোনো বোলার। ২০১২ সালে প্রথম আসরে দুরন্ত রাজশাহীর হয়ে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের বিপক্ষে মোহাম্মদ সামির ৬ রানে ৫ উইকেট ছিল আগের সেরা। 

হারলেও রাজশাহীর ফাইনাল খেলার সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। এলিমিনেটর জয়ী চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে তারা। বুধবারের এই ম্যাচ জয়ীর বিপক্ষেই ফাইনালে মুখোমুখি হবে খুলনা।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম কোয়ালিফায়ারে ২৭ রানে জিতেছে খুলনা। ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শেষ বলে ১৩১ রানে গুটিয়ে গেছে রাজশাহী।

আমিরের বিধ্বংসী বোলিংয়ে ২৩ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে রাজশাহী, এর মধ্যে ৪ উইকেটই নেন পাকিস্তানি এই পেসার।

প্রথম ওভারেই আমীরের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস (৩ বলে ২)। এরপর একে একে বাঁহাতি এই পেসারের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন আফিফ হোসেন (১১), অলক কাপালি (০) এবং মারকুটে ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান ও রাজশাহী দলের অধিনায়ক আন্দ্রে রাসেল (০)।

মাঝে রবি বোপারার (১) উইকেটটি তুলে নেন রবি ফ্রাইলিংক। ফরহাদ রেজাকে (৩) নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে রাজশাহীর ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটান শহীদুল ইসলাম। বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন শোয়েব মালিক। ১৮তম ওভারে এসে ৫০ বলে ১০ বাউন্ডারি আর ৪ ছক্কায় ৮০ রান করা শোয়েবের উইকেটটিও তুলে নেন আমির। সবমিলিয়ে ১৭ রান খরচ করে পাকিস্তানি এ পেসার তুলে নেন রাজশাহীর ৬টি উইকেট।

শেষ পর্যন্ত সব উইকেট হারিয়ে ১৩১ রান করে রাজশাহী। এক ওভার বল করে ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট পেয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। একটি করে উইকেট পেয়েছেন ফ্রাইলিংক ও শহিদুল ইসলাম।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তর হার না মানা হাফসেঞ্চুরিতে ভর করে ৩ উইকেটে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে খুলনা টাইগার্স। অবশ্য শুরুতেই রাজশাহী বোলারদের তোপে পড়ে খুলনা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই মোহাম্মদ ইরফানের জোড়া শিকার হন মেহেদী হাসান মিরাজ (৮ বলে ৮) আর রাইলি রুশো (০)।

তৃতীয় উইকেটে শামসুর রহমান শুভকে নিয়ে সেই বিপদ কাটিয়ে উঠেন নাজমুল হোসেন শান্ত, গড়েন ৬৮ রানের জুটি। ৩১ বলে ৩২ রান করে রবি বোপারার শিকার হয়ে শুভ ফিরলে ভাঙে এই জুটিটি। ইনিংসের ১৮.২ ওভারে ইরফানের বলে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে পড়ে ১৬ বলে ২১ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন মুশফিক। শান্ত শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫৭ বলে ৭৮ রানে।

৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ ইরফান আর ৩ ওভারে ২৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেন বোপারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

খুলনা টাইগার্স: ২০ ওভারে ১৫৮/৩ (শান্ত ৭৮*, মিরাজ ৮, রুশো ০, শামসুর ৩২, মুশফিক ২১ আহত অবসর, জাদরান ১২*, ইরফান ৪-১-১৩-২, আবু জায়েদ ২-০-২১-০, মালিক ৩-১-২৩-০, রাসেল ৪-০-৩৩-০, রাব্বি ২-০-২০-০, তাইজুল ২-০-২২-০, বোপারা ৩-০-২৪-১)

রাজশাহী রয়্যালস: ২০ ওভারে ১৩১ (লিটন ২, আফিফ ১১, মালিক ৮০, কাপালী ০, বোপারা ১, রাসেল ০, রেজা ৩, তাইজুল ১২, রাব্বি ১১*, আবু জায়েদ ৭, ইরফান ০; আমির ৪-০-১৭-৬, ফ্রাইলিঙ্ক ৪-১-২৯-১, শফিউল ৪-০-৩৬-০, শহিদুল ৪-০-১৫-১, আমিনুল ৩-০-২৬-০, মিরাজ ১-০-৬-২)

ফল: খুলনা টাইগার্স ২৭ রানে জয়ী