তসলিমার সমালোচনায় মঈন আলীর বাবা

ইংলিশ অলরাউন্ডার মঈন আলীকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তসলিমা নাসরিন। পরে ইংলিশ ক্রিকেটারদের একের পর এক রি-টুইটের পর সেই টুইট মুছেও ফেলেন তিনি।

কিন্তু আবারও নতুন টুইট করেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা। এবার তার জবাবে আসরে নামলেন খোদ মঈন আলীর বাবা।

মঈনের বাবা মুনির আলী। তিনি এটিকে ‘ইসলাম বিদ্বেষী’ বক্তব্য বলে অভিহিত করেছেন। লেখিকার শব্দ চয়ন দেখেও হতবাক হয়েছেন তিনি।

মুনির আলী বলেন, ‘আমার ছেলে মঈনের বিরুদ্ধে তসলিমা নাসরিনের জঘন্য মন্তব্য পড়ে আমি হতবাক হয়েছি। তার টুইটটিতে তিনি তার মূল মন্তব্যটিকে ‘ব্যঙ্গাত্মক’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। আমি তাকে একটি অভিধান নিতে বলব এবং ‘ব্যঙ্গাত্মক’ শব্দটির অর্থ দেখতে বলব। ‘

ধর্মীয় বিশ্বাস থেকেই আইপিএলে তার দল চেন্নাই সুপার কিংসকে (সিএসকে) নিজের জার্সি থেকে মদ প্রস্তুতকারক সংস্থার লোগো সরিয়ে নিতে বলেছিলেন। মঈনের অনুরোধ রেখেই সিএসকে তার জার্সি থেকে সংশ্লিষ্ট লোগো সরিয়ে দিয়েছে।

ফলে মঈন এখন মদের লোগো ছাড়া জার্সি পরতে পারবেন। কিন্তু মঈনের জার্সি থেকে এই লোগো সরিয়ে ফেলা নিয়ে এক বিতর্কিত টুইট করেছেন বাংলাদেশের বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘মঈন আলী ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত না থাকলে সিরিয়ায় গিয়ে আইসিসে (জঙ্গি সংগঠন) যোগ দিতেন। '

‘নির্বাসিত’ এই লেখিকার টুইট নিয়ে তুমুল সমালোচনার জন্ম হয়েছে। এমনকি সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন মঈন আলীর জাতীয় দলের সতীর্থ ইংলিশ পেসার জোফরা আর্চারও। তসলিমার টুইটটি রিটুইট করে জোফরা আর্চার লিখেছেন, 'আপনি ঠিক আছেন তো? আমার মনে হয় আপনি ঠিক নেই'!

তবে ঘটনার এখানেই শেষ নয়। তসলিমা পরে আরও এক টুইটে লিখেছেন, ‘হেটার্সরা ভালো করেই জানে মঈন আলীকে নিয়ে আমার টুইটটি ছিল নিছক মশকরা। কিন্তু তারা এটাকে একটা ইস্যু বানিয়ে আমাকে আক্রমণ করছে কারণ আমি মুসলিম সমাজকে সেক্যুলার বানানোর চেষ্টা করছি এবং আমি ইসলামি গোঁড়ামির বিরোধিতা করছি। মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হলো, নারীবাদী বামরা নারী-বিরোধী ইসলামিস্টদের সমর্থন করে। '

তসলিমার এই টুইটও রি-টুইট করেছেন আর্চার। তিনি লিখেছেন, ‘মশকরা? কেউ তো হাসছে না, এমনকি আপনি নিজেও না। আপনি অন্তত যেটা করতে পারেন, টুইটটা ডিলিট করে দিতে পারেন। ’

পরে এক টুইটে ইংলিশ ক্রিকেটার বেন ডাকেটের মন্তব্য, ‘ অ্যাপটিই (টুইটার) আসলে সমস্যা, যেটাকে ব্যবহার করে এমন লোকরা বাজে কথা বলতে সাহস পায়। খুবই বিরক্তিকর। ’

ইংলিশ পেসার সাকিব মাহমুদের ভাষ্য, ‘বিরক্তিকর এক ব্যক্তি’!