টানা ৮ হার, টাইগারদের ভবিষ্যৎ কী?

শেষ ওভারে প্রয়োজন ৮ রান। বল হাতে তুলে নিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ব্যাটসম্যান সরফারজ আহমেদ। প্রথম বলটি দিলেন ডট। দ্বিতীয় বলেই মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দিলেন পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যান। আউট হয়ে গেলেন তিনি। পরের বলেই উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যান হায়দার আলি ক্যাচ তুললেন। লং অনে ক্যাচ ধরলেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

পরপর দুই বলে দুই উইকেট। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা তৈরি হলো মাহমুদউল্লাহর। ম্যাচও দারুণ জমে উঠলো। তৈরি হলো রোমাঞ্চ। কিন্তু চতুর্থ বলেই ইফতিখার আহমেদ ছক্কা মেরে দিলেন। হ্যাটট্রিক তো হলোই না। উল্টো ছক্কা খেলেন রিয়াদ। পঞ্চম বলে আবারও উইকেট। এবার ইফতিখার ক্যাচ দিলেন পরিবর্তিত ফিল্ডার ইয়াসির রাব্বির হাতে।

শেষ বলে রান লাগবে ২। এক্ষণে দারুণ রোমাঞ্চ জমে উঠলো। রিয়াদ একবার বল করলেন। কিন্তু তার আগেই সরে দাঁড়ালেন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নওয়াজ। আবার রিয়াদ বল করতে এসে মানকাডিংয়ের চেষ্টা করলেন পাকিস্তানের নন-স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যানকে।

শেষ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২ রান। নতুন ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ নওয়াজ শেষ বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

ব্যর্থতার বৃত্তেই আটকে আছে বাংলাদেশ। টানা ৮ ম্যাচ পরাজয় দেখল টাইগাররা। বিশ্বকাপের মূল পর্বে ৫ ম্যাচে অংশ নিয়ে শূন্য হাতে আরব আমিরাত থেকে দেশে ফেরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের নেতৃত্বাধীন দলটি।

বিশ্বকাপ শেষে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে টানা তিন ম্যাচে হেরে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ দল।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১২৭/৭ রান করে ৪ উইকেটে হারে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ১০৮/৭ রান করে ৮ উইকেটে পরাজয় দেখে টাইগাররা। সোমবার তৃতীয় ম্যাচে ১২৪/৭ রান করে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা হেরে যায় ৫ উইকেটে।

সোমবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১২৪ রান করে বাংলাদেশ। টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৫ উইকেটের জয় পায় পাাকিস্তান।

এদিন টস জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়াতে নেমে ৩৭ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে টাইগাররা। তৃতীয় উইকেটে আফিফ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে ৪২ বলে ৪৩ রানের জুটি গড়েন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ। 

১৪.২ ওভারে দলীয় ৮০ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন আফিফ। তার আগে ২১ বলে ২ ছক্কায় ২০ রান করেন এই তরুণ ব্যাটার। 

চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সঙ্গে নিয়ে ২৫ বলে ফের ৩১ রানের জুটি গড়েন ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম।

এরপর মাত্র ১৩ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ দল। ৫০ বলে দুটি চার ও দুটি ছক্কায় দলীয় সর্বোচ্চ ৪৭ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। 

দুই বলে ৪ রান করে ফেরেন নুরুল হাসান সোহান। ১৪ বলে ১৩ রান করার সুযোগ পান অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ৩ বলে ২ রানে রান আউট হন আমিনুল। 

শেষ দিকে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারণে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান তুলতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ। 

মামুলি স্কোর তাড়া করতে নেমে ৬.৬ ওভারে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। বাংলাদেশ সফরে এসে টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রত্যাশিত মানের ব্যাটিং কারতে পারেননি পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। প্রথম দুই ম্যাচে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের গতির বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন এ তারকা ব্যাটসম্যান।

সোমবার সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে তরুণ লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলামের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন বাবর আজম। 

আগের দুই ম্যাচে ৭ ও ১ রানে আউট হওয়া পাকিস্তানের এই সময়ের সেরা এই ব্যাটসম্যান এদিন ফেরেন ২৫ বলে ২টি বাউন্ডারিতে ১৯ রান করে।

দ্বিতীয় উইকেটে হায়দার আলীকে সঙ্গে নিয়ে ৪৯ বলে ৫১ রানের জুটি গড়েন ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান। দলীয় ৮৩ রানে অভিষিক্ত পেসার শহিদুলের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন রিজওয়ান। তার আগে ৪৩ বলে দুটি চার ও এক ছক্কায় ৪০ রান করে ফেরেন এই তারকা ওপেনার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৪/৭ রান (মোহাম্মদ নাঈম শেখ ৪৭, শামিম হোসেন ২২, আফিফ হোসেন ২০, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৩; মোহাম্মদ ওয়াসিম ২/১৫, ওসমান কাদির ২/৩৫)।

পাকিস্তান: ২০ ওভারে ১২৭/৫ রান (হায়দার আলী ৪৫, মোহাম্মদ রিজওয়ান ৪০, বাবর আজম ১৯)।

ফল: পাকিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী।