আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটুকু?

সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরকে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ধমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। এরপর ইরানের প্রতিবেশী ইরাকের একটি তেলক্ষেত্র থেকে বিদেশি কর্মীদের সরিয়ে নেয় তেল কোম্পানি এক্সন মবিল।

গুরুত্বপূর্ণভাবে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সেনা ও স্বার্থকে হুমকি দেওয়ার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করেছেন ট্রাম্প। পাঠিয়েছেন যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপনাস্ত্র ধ্বংসকারী যুদ্ধজাহাজও।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমাগত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করে চীন। দেশটির শীর্ষ কূটনীতিক তেহরানকে বলেছেন, তারা একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধী এবং স্বার্থ সুরক্ষায় তেহরানের চেষ্টাকে সমর্থন জানাচ্ছে।-খবর রয়টার্স

এরইমধ্যে আরব আমিরাতের (ইউএই) ফুজাইরাহ বন্দর উপকূলে সৌদি আরবের দু’টি তেলবাহী জাহাজে হামলা হয়। যার জন্য ইরানকে দোষী করে সৌদি। এমনকি সৌদির কয়েকটি পত্রিকা ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানায়। এতে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের কোনো সম্ভাবনা নেই।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে মূলত মীমাংসা করে দেয় সুইজারল্যান্ড।

ওই বৈঠকের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, তিনি আশা করেন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে না। তিনি ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চান।

তবে ট্রাম্প এও স্পষ্ট করেছেন ওই অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন তিনি।

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়া নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে আর্ন্তজাতিক রাজনীতিতেও। কোনো শক্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য আমেরিকার উপর চাপ সৃষ্টি করছে রাশিয়া, কানাডাসহ পরমাণু চুক্তিতে থাকা অন্য ছয়টি দেশও।

এরই প্রেক্ষিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ একটি আর্ন্তজাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কোনো যুদ্ধ হবে না, কারণ আমরা কেউ যুদ্ধ চাই না, আর এই অঞ্চলে ইরানের মুখোমুখি হওয়ার মতো ধারণা বা বিভ্রান্তিতেও কেউ ভুগছে না।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে তেহরানের ওপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি অব্যাহত রাখার ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি উপসাগরীয় এলাকায় যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে ওয়াশিংটন। এতেই সৃষ্টি হয় যুদ্ধ পরিস্থিতির।