মহাবিপাকে মমতা বন্দোপাধ্যয়

লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। নিজের দল থেকে নেতা-কর্মীদের বিজেপিতে যাওয়াও থামাতে পারেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরইমধ্যে নয়া ঝামেলায় পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

এনআরএস হাসপাতালে এক জুনিয়র চিকিৎসককে মারধরের প্রতিবাদে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখে বিক্ষোভে নেমেছে চিকিৎসকরা। পলে গোটা রাজ্যের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। গত কয়েকদিনে সেবা বন্ধ থাকায় চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে অন্তত ১০ জন।

বৃহস্পতিবার এসএসকেএম-এ গিয়ে আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের কর্মবিরতি উঠিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বেলা দু’টোর মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ‘এসমা’ জারিরও হুমকি দেন তিনি। কিন্তু, তাতে ফল হয় উল্টো। আন্দোলনে অনড় থাকেন জুনিয়র চিকিৎসকরা। মুখ্যমন্ত্রীর কথার বিরোধীতা করে সোচ্চার হয় চিকিৎসক মহল। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র চিকিৎসকরাও গণইস্তফা দেন।

শুধু বাংলা নয় গোটা দেশজুড়ে চিকিৎসা পরিষেবায় এনআরএসের আঁচ পড়ে। রাজ্যের বুদ্ধিজীবীরা চিকিৎসকদের দাবিকে সমর্থন করেন। তবে রোগীদের কথা ভেবে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের আবেদন জানান তারা। তবে তাদের দাবিকেও উপেক্ষা করে সোমবার গোটা দেশে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় চিকিৎসকরা।

এই অবস্থায় সমাধানসূত্র খুঁজতে শুক্রবার সন্ধ্যায় পাঁচ সিনিয়র ডাক্তারকে নবান্নে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী। সেই বৈঠকের প্রেক্ষিতেই শনিবার সকালে জিবি বৈঠক করেন এনআরএসের চিকিৎসকরা। পরে তারা জানান, মুখ্যমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে নবান্নে আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা যাবেন না। এক বিবৃতিতে তারা জানয়, ঘটনার পর থেকে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও মুখ্যমন্ত্রীর কথা সমর্থনযোগ্য নয়। এ জন্য মমতাকে ক্ষমা চাইতে হবে। তবে এতে রাজি নন মমতা।

এদিকে, চিকিৎসা পরিষেবা না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে রোগীদের। এই পরিস্থিতির জন্য রিপোর্ট তলব করেছেন অমিত শাহের মন্ত্রক। শনিবারের মধ্যেই সেই রিপোর্ট দিতে হবে রাজ্যকে। কি কারণে এই বিক্ষোভ, আর সেই বিক্ষোভ কেন চলছে এতদিন ধরে, সেই সব কারণ জানাতে হবে রাজ্য সরকারকে। এতে মহাবিপাকে পড়েছেন মমতা। একদিকে, নিজের ইগো আর অন্যদিকে কেন্দ্রের চাপ। কি করবেন সেটা বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি।