জুম্মার নামাজের পর কাশ্মীরে বিক্ষোভ, যা দেখেছেন বিবিসির সাংবাদিক

৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই উত্তাল রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর। গোটা উপত্যাকায় জারি রয়েছে কারফিউ। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট, টেলিযোগাযোগ সেবা। প্রায় ৭ লাখ ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী গত ২০ দিন ধরে টহল দিচ্ছে কাশ্মীরজুড়ে। তবে এরই মাঝে আসছে বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের খবর।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবারের নামাজের পর কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের সৌরা এলাকায় একটি বিক্ষোভ বের হয়। এ সময় তাদের হটাতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের তরফ থেকে পাথর ছোঁড়া শুরু হলে নিরাপত্তা বাহিনী জবাবে ছররা গুলি চালায়।

বিবিসির সাংবাদিক বলেন, আমি অন্তত দুজনকে আহত হতে দেখেছি। কিন্তু প্রশাসনের তরফ থেকে আহতের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত জানানো হয়নি। বেলা একটার দিকে সেখানে পৌঁছাই আমি। সঙ্গে ছিলেন সহকর্মী ক্যামেরাপার্সন নেহা শর্মা। তখন মাজারে মানুষ জড়ো হওয়া শুরু হয়েছিল। নারী আর পুরুষ - নামাজ পড়তে আসেন এখানে।

তিনি জানান, প্রথম নামাজের পরে স্বাধীনতাপন্থী কিছু স্লোগান ওঠে। তারপরে একটা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয়। সেখানে তখন বেশ কয়েক হাজার মানুষ হাজির ছিলেন। গতসপ্তাহের মতোই আজকের বিক্ষোভ মিছিলটাও নানা অলি গলি ঘুরে শেষ হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎই একটা জায়গায় গলির ভেতরে নিরাপত্তা বাহিনী ঢুকতে চেষ্টা করে। তখনই অশান্তি শুরু হয়।

প্রতিবেদনে ওই সাংবাদিক আরও লেখেন, তখনই পাথর ছোঁড়া শুরু হল একদিকে, আর অন্যদিকে সব বাড়ি থেকে টিন বাজানো হতে লাগল। সবাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওই গলিটার দিকে দৌড়তে লাগল। একদিক থেকে পাথর ছোঁড়া হচ্ছে, অন্যদিক থেকে ছররা গুলি, কাঁদানে গ্যাস আর গোলমরিচের গোলা ছোঁড়া হচ্ছিল। আমি দুজনকে ছররা গুলিতে আহত হতে দেখেছি। একজনের চোখ থেকে রক্ত বেরচ্ছিল, আরেকজনের ঘাড়ে আঘাত লেগেছিল ছররা গুলির।

বিবিসির সাংবাদিকদের নাকেও গোলমরিচের গ্যাস ঢোকে। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা লবণ আর পানি দিলে তারা কিছুটা সুস্থ হন।

এদিকে, কাশ্মীরের বড় মসজিদগুলিতে শুক্রবারের নামাজ আদায় করতে দেয়া হয়নি গতকালও। তবে এলাকার ছোট ছোট মসজিদগুলিতে নামাজ পড়তে কোনও দেয়া হয়নি কাল।

সৌরাতে অশান্তি হলেও শহরের অন্যান্য অঞ্চলে কোনও বিক্ষোভ বা অশান্তির খবর নেই।

বিবিসির রিয়াজ মাসরুর হজরতবাল দরগাসহ শহরের নানা বড় মসজিদ ঘুরে জানাছেন আজ তৃতীয় সপ্তাহের মতো শুক্রবারের নামাজের জন্য বড় জমায়েতের অনুমতি দিচ্ছে না।

সোপিয়ান, কুলগাম, বারামুল্লা, কুপওয়াড়া বা অনন্তনাগ এলাকাতেও একই ধরণের বিধিনিষেধ চালু রয়েছে। মাইক বাজানোরও অনুমতি নেই কোনও মসজিদে।