সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ ইমরান খানের

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশটির সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে ও কাশ্মীর ইস্যুতে নজরদারি অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

বুধবার (৭ আগস্ট) পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পাকিস্তানে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কমিটির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এরপরই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ওই বৈঠকেই এ নির্দেশ দেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদীর সরকার কাশ্মীরের ভারত নিয়ন্ত্রিত অংশের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা রদ করে কেন্দ্রের শাসন জারির প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ এল। ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ দাবি করে, আবার দুই দেশই কাশ্মীরের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ করে।

আরেক বড় প্রতিবেশী চীনও কাশ্মীরের একটি অংশের দাবিদার। পাকিস্তানের পাশাপাশি চীনও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

এতে পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশী দুই চির বৈরী প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান-ভারতের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়েছে।

আজকের বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল ও বেসামরিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এই নিয়ে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তান সংসদের যৌথ অধিবেশনে। তিনি বলেন, ‘‘ওরা (ভারত) কিছু করতে পারে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। আমরা প্রতিশোধ নেব। শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়ব।''

এর আগে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জানিয়ে দেন জম্মু ও কাশ্মীর বলতে তিনি পাক অধিকৃত কাশ্মীরকেও বোঝেন। তিনি বলেন, ‘‘কাশ্মীর ভারতের অখণ্ড অংশ। আমি এটা সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে দিতে চাই যে যখনই আমরা জম্মু ও কাশ্মীর বলি, তার মধ্যে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরও পড়ে (গিলগিট-বালটিস্তান সহ) এবং আকসাই চিনও পড়ে। এ নিয়ে কোনও সন্দেহ থাকা উচিত নয়। সমগ্র জম্মু ও কাশ্মীর হল ভারতের অখণ্ড অংশ।''

দুই দেশের পারমাণবিক শক্তি রয়েছে, একথা জানিয়ে ইমরান বলেন, এই পরিস্থিতিতে কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ। প্রথাগত যুদ্ধ? কিন্তু কেউ এতে জিতবে না।''

ইমরান বলেন, ‘‘আমি কি নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেল করছি? আমি সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করছি।''