কাশ্মীর: পাথরের জবাবে চলছে ছররা গুলি

ভারতশাসিত কাশ্মীরের জন্য দেশটির সংবিধানে থাকা বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর ওই এলাকায় বিক্ষোভ ঠেকাতে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযানে কর্তৃপক্ষ অন্তত ৩০০ রাজনীতিক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে আটক করেছে। এছাড়াও গত কয়েকদিনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হাজারের উপর বিক্ষোকারীকে। তাদের রাখা হয়েছে কাশ্মীরের বিভিন্ন গেস্ট হাউজ ও হোটেল, লজগুলোতে।

কারফিউ জারি রেখে সংবাদমাধ্যম ও ইন্টারনেটসহ মানুষের চলাচলের ওপর পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন সত্ত্বেও বিক্ষিপ্তভাবে বিক্ষোভের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাশ্মিরবাসী। গণপরিবহন চলছে না, ফলে অসুস্থ হয়ে পড়লে কেবলমাত্র তারাই হাসপাতালে যেতে পারছে, যাদের গাড়ি আছে। শহর জুড়ে বহু রাস্তা স্থায়ীভাবে কাঁটাতার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কাশ্মীরে অচলাবস্থায় বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক খাবার সরবরাহ। ব্যাংক ও এটিএমগুলোতেও টাকা নেই। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে দোকানগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন কাশ্মীরবাসী। ১০০ ঘণ্টা পার হতেই তাই দোকানগুলোতেও শেষ হয়ে গেছে খাবার। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে গেছে বহুগুণ। পাঁচ দিন ধরে চলা এই অচলাবস্থায় না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে নিম্নবিত্ত অনেক কাশ্মীরিদের।

শুক্রবার পুলিশের তরফে কারফিউ সাময়িকভাবে তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয় যাতে করে মানুষ জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যেতে পারে। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর খবর অনুযায়ী নামাজের পরে কিছু বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বার্তা সংস্থাটি জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া শুরু করে মানুষ। আধাসামরিক বাহিনী টিয়ার গ্যাস ও ছররা গুলি নিক্ষেপ করে তার জবাব দেয়।

নামাজ শুরুর আগে ছররা ও রাবার গুলিতে আহত অন্তত ৫০ জনকে শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের বিক্ষোভের পর আরও কতজনের চিকিৎসার প্রয়োজন পড়েছে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে তা জানা যায়নি।

কাশ্মীরের পুলিশ কর্মকর্তাদের একজন বলেছেন, শ্রীনগরের অন্তত ৩০টি স্থানে সৈন্যদের ওপর পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ দমাতে পুলিশের প্রতিক্রিয়ায় আহত অন্তত ১৩ জনকে শহরটির প্রধান সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় শ্রীনগরের পুরনো শহরে কয়েক মিটার পরপর দূরত্বে রায়ট গিয়ার নিয়ে পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুত থাকতে দেখা গেছে; কয়েকশ মিটার পরপর ছিল কাঁটাতারের চেকপয়েন্ট। দীর্ঘদিন ধরে শ্রীনগরে বিক্ষোভের প্রধান কেন্দ্রস্থল জামে মসজিদের কাছে অন্তত তিনটি স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ওপর পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন উত্তরপশ্চিম শ্রীনগরের বেমিনা এলাকাতেও পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন।

“মানুষের মধ্যে ভয়াবহ ক্ষোভ বিরাজ করছে,” বলেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা।

এদিকে, কাশ্মীরে বন্ধ রাখা হয়েছে ক্যাবল টিভির সংযোগও। ধারণা করা হচ্ছে শহরের বাইরের অনেকেই এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের নতুন ঘোষণা শোনেনি। জানতে পারেনি, তাদের বিশেষ মর্যাদা আর স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নেওয়ার খবর। মানুষ দেখা করতে পারছে না স্বজনের সঙ্গে, এমনকী জরুরি স্বাস্থ্যগত প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সও ডাকতে পারছে না।

কাশ্মীরিরা মোদীর এ ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিশেষ সুবিধাদি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ভারতের অন্য অঞ্চলের লোক ঢুকিয়ে কাশ্মীরের জনমিতি বদলানোর পরিকল্পনা করছেন বলে আশঙ্কা করছেন।