ঈদের নামাজ পড়ার সুযোগও পেল না কাশ্মীরিরা!

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গতকাল রোববার ফের কারফিউ জারি করা হয়েছে। ফলে সোমবার ঈদের দিনে পুরো কাশ্মীরের পথঘাট থমথমে ও নির্জন। বিশেষ করে কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ঈদের নামাজ আদায় করেছেন সেখানকার মুসলিমরা। তবে বড় বড় মসজিদগুলোতে নামাজের অনুমতি মেলেনি।

বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ভারত-শাসিত কাশ্মিরের বেশিরভাগ বড় মসজিদে ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ের সুযোগ দেয়নি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, সরকারের হাতে আটক অথবা নজরবন্দি অবস্থায় থাকা রাজ্যের প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিসহ রাজ্যের মুসলিম বাসিন্দারা স্থানীয় ছোট ছোট মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

রাজধানী শ্রীনগরসহ বড় বড় মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেয়নি দেশটির সরকার। সরকারের তরফ থেকে অবশ্য মুসলিমদের ঈদের নমাজ আদায়ের বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।

এ দিন কার্যত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয় উপত্যকাকে। সকালে রাস্তার কাঁটাতারের বেড়া সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে, শ্রীনগরে রাস্তার দু’ধারেই নিরাপত্তাকর্মীরা মোতায়েন ছিলেন। বিক্ষোভের আশঙ্কায় মজুত রাখা হয়েছিল জলকামানও।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও, ইদের দিনে উপত্যকায় বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভের খবরও মিলেছে। শ্রীনগরে বিক্ষোভ দেখানো হয় বলে খবর প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স।

তবে, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের অবশ্য দাবি, উপত্যকায় নির্বিঘ্নেই ইদ পালিত হয়েছে। টুইটে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের তরফে ইমতিয়াজ হুসেন নামে এক আধিকারিক দাবি করেছেন, ‘এ দিন হাজার হাজার মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে ও শান্তিতে ইদের প্রার্থনা সারেন।’ সাধারণ মানুষকে ইদের শুভেচ্ছাও জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। পুলিশের তরফে মিষ্টিও বিলি করা হয়।

গত ৫ আগস্ট নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে এবং রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করে। তার আগে থেকেই কাশ্মীরের মানুষকে রীতিমতো বন্দি করা হয়েছে।