কাশ্মীর নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

আড়াই মাস আগে কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে ভারত। এরপরই সেখানে জারি হয় জরুরি অবস্থা। ওইদিন থেকেই বন্ধ করে দেয়া হয় মোবাইল, ল্যান্ডলাইন ও ইন্টারনেট সংযোগ। এমনকি পরিবহনেও আরোপ করা হয় কড়াকড়ি। বিভিন্ন স্থাপনে বসানো হয় নিরাপত্তা চৌকি।

ফলে পুরো বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে কাশ্মীর। দোকানপাট না খোলায় স্তব্ধ হয়ে যায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। শুরুতে বিষয়টিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ সমস্যা হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি যুক্তরাষ্ট্র। তবে সময়ের সাথে সাথে অবস্থান পাল্টাচ্ছে আমেরিকা।

সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করার সিদ্ধান্তের পেছনে ভারতের উন্নয়ন অ্যাজেন্ডাকে সমর্থন জানিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে কাশ্মীর উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, ভারত ৫ আগস্ট বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মার্কিন হাউসের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার ভারপ্রাপ্ত সহকারী সচিব অ্যালিস জি ওয়েলস বলেন, জম্মু ও লাদাখের অবস্থার উন্নতি হলেও উপত্যকাটি এখনো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসেনি। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জম্মু ও কাশ্মীরের তিন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীসহ সাধারণ নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের বন্দিদশা নিয়ে ভারত সরকারের প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্কসহ পরিষেবাগুলো সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছি। বিদেশি ও স্থানীয় সাংবাদিকেরা জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে ক্রমাগত কাজ করছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়ে তারা নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন।

ওয়েলস বলেছেন, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট ১৪ নভেম্বর কাশ্মীর সম্পর্কিত আবেদনের শুনানির পরিকল্পনা করছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের হাইকোর্ট মামলাগুলো পর্যালোচনা করছেন।