ইসরায়েলে নেতানিয়াহু অধ্যায়ের সমাপ্তি!

বহু চেষ্টার পরও জোট গঠনে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে হাল ছেড়ে দিয়েছেন ইসরায়েলের ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এতে করেেইসরায়েলে নেতানিয়াহু অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

সোমবার (২১ অক্টোবর) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মধ্য দিয়ে নেতানিয়াহু নতুন সরকার গড়ার প্রচেষ্টা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে এ তথ্য জানা যায়।

এর ফলে সরকারে বসার দৌড়ে এবারে সুযোগ পেতে চলেছেন নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দী ব্লু  অ্যান্ড হোয়াইট পার্টির নেতা বেনি গান্টজ।

গত মাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের পর কোনো দল এককভাবে সরকার গঠন  করতে ব্যর্থ হয়। নির্বাচনে নেতানিয়াহুরদল লিকুদ পার্টির ৩১ জন সদস্য জয়লাভ করে। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বেনি গান্টস-এর ব্লু অ্যান্ড হোয়াইট পার্টির ৩২ সদস্য জয় পায়। তবে সরকার গঠনের জন্য নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নিজ দলের সদস্যসহ মোট ৫৫ জন প্রতিনিধির সমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়।

এদিকে সরকার গঠনের দৌড়ে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বেনি এখন পর্যন্ত ৫৪ জন সদস্যের সমর্থন আদায় করতে পেরেছেন বলে জানা গেছে। দেশটির ১২০ সদস্য বিশিষ্ট সংসদে সরকার গঠন করতে হলে কোনো দলকে অন্তত ৬১জন সদস্যের সমর্থন থাকতে হবে। দৌড়ে এগিয়ে থাকা নেতানিয়াহুর হাতে সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় ছিল। তবে সে সময়ে তিনি জোট গঠনে ব্যর্থ হন।

সোমবারের বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, বৃহৎ একটি জাতীয় সরকার গড়তে ও আবারও একটি পুনঃনির্বাচন এড়াতে গত কয়েক সপ্তাহে বেনি গান্টজকে সমঝোতার টেবিলে আনতে আমি সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছি। কিন্তু তা সফল হয়নি।

অন্যদিকে গান্টজের ব্লু  অ্যান্ড হোয়াইট পার্টি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তার দল একটি উদার জোট সরকার গঠনের ব্যাপারে সংকল্পবদ্ধ। এ কারণেই তারা দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত নেতানিয়াহু ও ডানপন্থী  লিকুদ পার্টির সঙ্গে জোট গড়তে আগ্রহী নয়।

সাবেক সামরিক সেনাপ্রধান বেনি গান্টজও যদি জোট গড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তবে ইসরায়েলকে দ্বিতীয়বারের মতো পুনঃনির্বাচনের দিকে যেতে হবে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেবারে কোনো দল বা জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারায় সেপ্টেম্বরে পুনঃনির্বাচন দেওয়া হয়। নতুন সরকার গড়ার ব্যাপারে ২৮ দিনের সময় পাবেন বেনি গান্টজ।