কাশ্মীর: ভারতকে বিপদে ফেলে দিলেন আঙ্গেলা ম্যার্কেল

জম্মু ও কাশ্মীরের স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস তুলে নিয়ে গত ৫ আগস্ট উপত্যকাকে আলাদা দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগ করা হয় রাজ্যটিতে। কাশ্মীরের নিজস্ব পতাকার পরিবর্তে ঝুলানো হয় ভারতের পতাকা।

ওই ঘোসণার পরই পুরো কাশ্মীরজুড়ে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। বন্ধ করে দেওয়া হয় মোবাইল ফোন, ল্যান্ডলাইনসহ ইন্টারনেট পরিষেবা। ফলে থমকে যায় গোটা উপত্যকার মানুষের জীবন। বন্ধ হয়ে যায় স্কুল কলেজসহ পর্যটনও। এর ২ মাস পর আংশিক মোবাইল সেবা চালু হয়। তবে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধই ছিল। সম্প্রতি খুলে দেওয়া হয় পর্যটন শিল্পও। তবে তাতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। কারণ আতঙ্ক নিয়ে কেউ আসছেন না কাশ্মীরে।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের কাশ্মীরে নিয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই ইউরোপের অন্যতম বড় স্বর সেই প্রয়াসে কিছুটা হলেও জল ঢেলে দিল।

আজ জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেলের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দীর্ঘ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পরে এক বিশদ যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে দুই দেশ। দুই রাষ্ট্রনেতা সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়ে দেন, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত, দু’টি ক্ষেত্রেই সমন্বয় গভীর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি পাকিস্তানের নাম না করে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের নিন্দা করেছেন মোদি ও ম্যার্কেল।

কিন্তু কূটনৈতিক মৈত্রীর এই তুঙ্গ মুহূর্ত তৈরি হওয়ার পরেই এ দিন রাতে তাঁর সঙ্গে আসা বিদেশি সাংবাদিকদের ম্যার্কেল বলেন, কাশ্মীরের পরিস্থিতি অত্যন্ত নড়বড়ে। সেখানকার উন্নতি প্রয়োজন।

কাশ্মীর ‘ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়’ তা স্বীকার করে নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলরের মন্তব্য, আমি প্রধানমন্ত্রী মোদিকে জিজ্ঞাসা করব, এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থা ফেরাতে তিনি কী পদক্ষেপ করছেন!

৩৭০ ধারা রদের পর জার্মানি বিবৃতি দিয়ে বলেছিল, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বিষয়টি নিয়ে তৃতীয় পক্ষের মাথা গলানো উচিত নয়। কিন্তু সম্প্রতি সে দেশের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, কাশ্মীর থেকে অবিলম্বে সমস্ত বিধি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে জনজীবনে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনা উচিত। তার পরে তিন দিন আগে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের জার্মান প্রতিনিধি নিকোলাউস ফেস্ট-ও কাশ্মীর সফর করে বলেছিলেন, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।

এরপরই আজ মার্কেল এমন মন্তব্য করায় বেশ বিপাকেই পড়েছে ভারত। যদিও ম্যার্কেলকে জানান, কাশ্মীর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের রয়েছে।

অন্যদিকে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করায় ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে আমেরিকা। এছাড়াও প্রতিদিনই ঘটছে বোমা হামলার ঘটনা। তাতে করে বিপত্তি বাড়ছে ভারতের।