রাম মন্দির নিয়ে হিন্দু নেতাদের দ্বন্দ্ব চরমে!

শনিবার ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, বাবরি মসজিদ যে স্থানে ছিল মানে বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে মন্দির তৈরি করা হবে। মুসলিমদের মসজিদ তৈরির জন্য অন্যত্র দেয়া হবে ৫ একর জায়গা। মন্দির তৈরির জন্য কেন্দ্র একটি প্রকল্প তৈরি করবে।

এই রায়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির জয়ই দেখেছে মার্কিন মুলুকের অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যম। তবে একই সঙ্গে দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভিত্তিতে এতে আঘাত লাগতে পারে— এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সংবাদ মাধ্যমের একাংশ। যদিও বেশিরভাগ ভারতীয় মুসলিম এই রায় মেনে নিয়েছে। তারা বলছে, নতুন করে মসিজদ নিয়ে তারা আর কোনো ধরনের সহিংসতা চান না। যদিও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড রায়ের বিপক্ষে রিভিউ আবেদনের কথা জানিয়েছে।

তবে এরইমধ্যে এলা নতুন খবর। মন্দির তৈরি নিয়ে বিবাদে জড়িয়েছে হিন্দুদেরই দুইটি গ্রুপ। কে কে থাকবেন সরকারের তৈরি ওই ট্রাস্টে? কার হাতে থাকবে রাম মন্দিরের ‘চাবি’? কে তুলবেন মন্দির গড়ার টাকা? পরে তা থাকবে কার জিম্মায়? এসব নিয়েই এখন চলছে আলোচনা।

এর আগে অযোধ্যা মামলায় যে রায় হয়েছিল তাতে ২.৭৭ একর জমি সমান তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। একটি ভাগ পেত মুসলিমরা, অন্যটি হিন্দু পরিষদ ও আরেক ভাগ নির্মোহী আখড়া। তবে এবার পুরো জমিই পাচ্ছে হিন্দু পরিষদ।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তৈরি রাম মন্দির ন্যাস মনে করছে, রামলালাকে দেওয়ার অর্থ— জমি আর তাতে মন্দির তৈরি ও পরিচালনার দায়িত্ব তাদেরই দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। কারণ, এই জমির অধিকার চেয়ে মামলাও তো পরিষদের করা।

ভারতীয় একটি সংবাদ মাধ্যমকে ন্যাসের প্রধান নিত্য গোপাল দাসের দাবি, মন্দির ন্যাসই তৈরি করুক। তা পরিচালনার দায়িত্বও দেওয়া হোক তাদের। নির্মোহী আখড়াকে শামিল করার প্রশ্নই নেই। সরকার শুধু পাশে থাকুক। গড়ুক পরিকাঠামো।

তিনি বলেন, মন্দির গড়বেন ধরে নিয়েই তো ওই জমির কাছেই সেই ১৯৯০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রাজস্থানি পাথরে মন্দিরের প্রায় ৭০% কাজ সেরে রেখেছেন তাঁরা। তৈরি থাম। ‘শ্রী রাম’ লেখা ইটও রাখা রয়েছে থরে থরে। শুধু মন্দির তৈরির অপেক্ষা। কিন্তু সরকার যদি অন্য নকশায় মন্দির গড়ার কথা ভাবে? যদি গোড়া থেকে তৈরি শুরু হয় সব? উত্তর এল, বললেই হল! ঠিক করে রাখা নকশাতেই মন্দির হবে। নিতে হবে ওই ইট, থামই।

নির্মোহী আখড়ার প্রধান মহন্ত দীনেন্দ্র দাস বলেন, স্বপ্নেও ন্যাসের সঙ্গে হাত মেলাব না। তা হলে প্রতি পদে আপস করতে হবে অন্যায়ের সঙ্গে। তবে সরকার যদি সম্মানের সঙ্গে ট্রাস্টে ডাকে, তবে তা ভেবে দেখব।

উল্লেখ্য, রাম মন্দিরের জন্য তহবিলের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছিল হিন্দু পরিষদের বিরুদ্ধে।

এদিকে, মন্দির তৈরির পর্যাপ্ত টাকা এই মুহূর্তে নেই। পরিষদ চায় সরকারের ভাঁড়ার থেকে নেওয়ার বদলে তা আসুক ভক্তদের চাঁদার মাধ্যমে। শোনা যাচ্ছে, মন্দির চত্বরের পরিকাঠামো গড়তে ৫০০ কোটি টাকা তুলে রেখেছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।