চিকিৎসককে গণধর্ষণের পর হত্যার ভয়াবহ কাহিনী

গত কয়েকদিনে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ভারতে। তবে সবচেয়ে আলোচিত হায়দরাবাদের এক পশু চিকিৎসক তরুণীকে গণধর্ষণ করে খুন। এসবের প্রেক্ষিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। প্রতিবাদ আসছে নানা দিক থেকে।

সাধারণ মানুষ থেকে সেলেব্রিটিরা এই ধর্ষণকাণ্ডের সর্বোচ্চ বিচারের পাশাপাশি মেয়েদের সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে। এরইমধ্যে উঠে এসেছে এই ধর্ষণে ভয়াবহ ঘটনা।

বৃহস্পতিবার হায়দরাবাদের অনতিদূরে শাদনগরে তরুণী চিকিৎসকের দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অনুমান, ধর্ষণ করে ওই তরুণীকে খুন করা হয় প্রথমে। তার পর তাঁর দেহ পোড়ানো হয়। শনিবার এই ধর্ষণকাণ্ডে আরও এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে হায়দরাবাদ পুলিশ।

তদন্তকারীরা জানান, পরিকল্পনা মাফিক ওই তরুণীকে শিকার বানানোর ছক কষা হয়। এই ছক কষা হয়েছিল ঘণ্টা তিনেক আগে। সেই মতো পশু-চিকিৎসক তরুণীর স্কুটারের চাকা ফুটো করে দেওয়া হয়েছিল, সারিয়ে দেওয়ার নাম করে সেই স্কুটার সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তার পরে একটি পরিত্যক্ত স্থানে নিয়ে গিয়ে পর পর চার জন মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে খুন করে পেট্রল-ডিজেল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয় দেহ।

তেলেঙ্গানায় গত বুধবারের এই ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। শনিবার ২৬ বছরের ওই তরুণীর আধপোড়া দেহাংশ উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে হায়দরাবাদ পুলিশ। মহম্মদ আরিফ (২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) এবং চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু (২০) নামে এই চার জনই ট্রাকের কর্মী।

নির্ভয়াকাণ্ডের পর ধর্ষণ রোধে কড়া আইন এনেছিলে তৎকালীন মনমোহন সিং-এর সরকার। কিন্তু ভারতে ধর্ষণ কমেনি। উল্টে একের পর এক বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় শিউরে উঠেছে দেশবাসী। এই অন্ধকারের শেষ কোথায় এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সর্বত্র। মোমবাতি মিছিল-বিক্ষোভ-প্রতিবাদে এখন উঠে আসছে একটাই শব্দ ‘হ্যাং দ্য রেপিস্ট’। অর্থাৎ ধর্ষকদের ফাঁসিতে ঝোলানো হোক।