বাবরি মসজিদ রায়: মুসলিম নেতাদের হুমকি দিচ্ছে প্রশাসন

সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াকফ বোর্ড অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি) জানিয়ে দিয়েছে, রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাবে তারা।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সচিব জাফারইয়াব জিলানি সংবাদসংস্থা পিটিআইকে বলেন, 'বোর্ড এই সিদ্ধান্তে অনড়। আগামী ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ জন্য আমাদের হাতে সময়ও রয়েছে।'

অযোধ্যা মামলায় বিবদমান পক্ষগুলির অন্যতম ছিল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড। শীর্ষ আদালত তার রায়ে বাবরি মসজিদের বিতর্কিত জমিতে রাম মন্দির নির্মাণের অনুমতি দিলেও এ কথা জানিয়েছিল সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে অযোধ্যার মধ্যেই অন্যত্র মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি দিতে হবে। রায় প্রাথমিক ভাবে মেনে নিলেও বিতর্ক শুরু হয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যার মধ্যে অন্যতম ছিল অন্যত্র পাঁচ একর জমির বিষয়টি। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল না জানানোর সিদ্ধান্ত নিলেও বিকল্প পাঁচ একর জমি আদৌ নেওয়া হবে কি না তা নিয়ে এখনও ধন্দে।

এরই মধ্যে এ দিন জিলানিকে উদ্ধৃত করে পার্সোনাল ল বোর্ড একটি টুইট করে। তাতে লেখা, 'আমাদের সাংবিধানিক অধিকারের জোরে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বাবরি মসজিদ মামলা নিয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিল করব। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এ নিয়ে আর মামলা না লড়ার যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আইনগত ভাবে আমাদের প্রভাবিত করবে না।

তবে মুসলিমদের যে অংশ পুনর্বিবেচনা আর্জি জানাতে পারেন, তাঁদের যে অযোধ্যা ও ফৈজাবাদের পুলিশ বেছে বেছে হেনস্থা করছে তা স্পষ্টই বলেছেন জিলানি। তাঁর অভিযোগ, যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন রীতিমতো শাসানি দিচ্ছে যে এই রায়ের বিরুদ্ধে ফের সুপ্রিম কোর্টে গেলে ভুয়ো মামলায় জেলে পোড়া হবে আবেদনকারীদের। তাঁর কথায়, 'প্রতি পদক্ষেপে আমাদের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে। সম্ভবত আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান ভুল বলেননি। ওয়াকফ বোর্ডের উপরও চাপ সৃষ্টি করেছিল রাজ্য সরকার। যদিও তারা তা মানবে না।'

এদিকে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু দফতরের মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নকভি বলেন, 'অযোধ্য বিতর্কের ফয়সলা হয়ে গিয়েছে। তার পরেও বিষয়টি নিয়ে সংঘাত ও বিভেদের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড ও জমিয়ত। মুসলিমদের কাছে শুধুমাত্র বাবরি মসজিদটাই ইস্যু নয়, বরং দেশের সমানাধিকার পাওয়াটাই বিষয়।'