আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো না, আমাকেও মেরে ফেলুন: ধর্ষকের স্ত্রী

হায়দরাবাদের তরুণী পশু চিকিৎসককে গণধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্ত চারজন পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। তারা হলেন- মহম্মদ আরিফ (২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) এবং চেন্নাকেশভুলুকে (২০)।

এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে গোটা ভারতজুড়ে। সাধারণ মানুষ এ এনকাউন্টারকে সমর্থন দিলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের বিচার বহির্ভূত হত্যাকে সমর্থন দিচ্ছেন না অনেকেই।

এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছে নিহতদের পরিবাররাও। স্বামীর মৃত্যুর খবর আসার পরে সামলানো যাচ্ছে না চেন্নাকেশভুলুর স্ত্রী রেনুকাকে। মাস ছয়েক আগে বিয়ে হয়েছিল তাঁদের। চেন্নাকেশভুলু যে কাউকে ধর্ষণ করতে পারে, মানতে পারছেন না তিনি।

 কাঁদতে কাঁদতে রেনুকা বলেছেন, পুলিশ বলেছিল, স্বামীর কিছু হবে না। ওকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এখন জানি না, কী করব। আমার স্বামীকে যেখানে মেরে ফেলা হয়েছে, সেখানেই নিয়ে চলো, আমাকেও মেরে দাও। আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো না।

কখনও আবার তিনি বলে উঠছেন, স্বামীকে যারা মারল, তাদের মেরে ফেলুন। নারায়ণপেটের গুড়িগন্দলা গ্রামের যুবক চেন্নাকেশভুলু। এই পরিবারটিকে যাঁরা চিনতেন, তাঁদের দাবি ওই যুবক কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন।

অভিযুক্ত মহম্মদ আরিফের মা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, তাঁর একমাত্র ছেলে আর বেঁচে নেই। এর আগে আরিফের বাবা বলেছিলেন, তাঁর সন্তান যদি সত্যিই দোষী হয়, তা হলে তাকে যেন কড়া শাস্তি দেওয়া হয়। তেলঙ্গানার নারায়ণপেট জেলার জাকলার গ্রামের আরিফ স্থানীয় পেট্রোল পাম্পে কাজ করত। পরে ট্রাকচালকের কাজে যোগ দিয়েছিল।

জল্লু শিবার বাবা জল্লু রামাপ্পা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে অপরাধ করে থাকতে পারে। কিন্তু সে জন্য এমন পরিণতি মেনে নেওয়া যায় না। রামাপ্পার কথায়, অনেকেই ধর্ষণ, খুন করে থাকে। তাদের এ ভাবে মেরে ফেলা হয় না। ওদেরই কেন এ ভাবে মেরে ফেলা হবে?

স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত চারজনের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। তেমন ভাবে লেখাপড়াও করেনি কেউ। কিন্তু ইদানীং রোজগার ভাল হওয়ায় হাতে টাকা আসছিল। মদ এবং অন্যান্য অনেক কিছুতে অভিযুক্তরা টাকা ওড়াত বলে দাবি। পরিবারের কোনও নিয়ন্ত্রণ ছিল না তাদের উপরে।