ভারতে বিজেপি ছাড়ার হিড়িক

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারত। অন্তত ছয়টি রাজ্যে চলছে সহিংস আন্দোলন। এরইমধ্যে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বহু।

আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কার্ফিউ জারি রয়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। বন্ধ ইন্টারনেটও। তবে আন্দোলন থামার নাম নেই। ধীরে ধীরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে অন্য রাজ্যগুলোতেও। এরইমধ্যে খবর সিএবির প্রেক্ষিতে বিজেপি ছাড়ছেন একাধিক নেতা।

বৃহস্পতিবারের পর থেকে আসামের পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। তার জেরে অনেকেই দলের উচ্চস্তরের নেতাদের দিকে আঙুল তুলতে শুরু করেন। তাঁরা আমজনতার মনোভাব তাঁরা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন, এই বলে ইতিমধ্যে দল থেকে ইস্তফাও দিয়েছেন অনেকেই।

বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা জগদীশ ভুঁইয়া, যিনি আবার অসম পেট্রোকেমিকেল লিমিটেডের চেয়ারম্যানও, গত শুক্রবার দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। অসমের সুপারস্টার যতীন বরা বৃহস্পতিবারই বিজেপি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ২০১৪ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। ইস্তফা দেওয়ার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, “সিএবি আমি সমর্থন করি না। আসামের সাধারণ মানুষই আমাকে যতীন বরা করে তুলেছেন, এই বিষয়ে আমি তাঁদের সঙ্গেই রয়েছি।”  কিছু দিন আগে রবি শর্মা নামে অন্য এক অভিনেতাও এই একই ইস্যুতে বিজেপি থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন।

এই আইনের প্রতিবাদে ভারতের একাধি কর্মকর্তা চাকরি থেকে ইস্তফাও দিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন উচ্চ পর্যায়ের পুলিশ কমিশনার আছেন। এছাড়া গতকাল পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ছেড়ে শতাধিক নেতাকর্মী তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন।

এদিকে, শোনা যাচ্ছে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপির শরিক দল আম গণ পরিষদ। তারা বিজেপি ছাড়বে বলেও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এমনটা হলে বেশ বড় বিপাকে পড়বে আসাম বিজেপি। কারণ বিধানসভায় তাদের ১৫ আসন রয়েছে। এই আসনগুলো চলে গেলে ক্ষমতাও হারাতে পারে বিজেপি।