মোদির চেষ্টা ব্যর্থ, কাশ্মীরে গেল না ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন

শেষ মুহূর্তে ভারত সফর বাতিল করল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রদূত।

বৃহস্পতিবার দুদিনের ভারত সফরে জম্মু ও কাশ্মীরে আসার কথা ছিল তাঁদের। ৯ জানুয়ারি অর্থাৎ বৃহস্পতিবার তাঁদের জম্মু ও কাশ্মীরে আমন্ত্রন জানিয়েছিল মোদি সরকার। দুদিনের জন্য ভারত সফরে আসার কথা ছিল এই বিদেশী প্রতিনিধি দলটির। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এই সফরে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

জানাগেছে, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কাশ্মীর পরিস্থিতি বর্তমানে কেমন তা তুলে ধরতে এই প্রতিনিধি দলটিকে আমন্ত্রণ জানান নরেন্দ্র মোদি। এর আগেও তারা কাশ্মীরে গিয়েছিলেন। তবে সেবার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে মাঝপথেই কাশ্মীর ছাড়েন তারা।

গত বছর অক্টোবর মাসে জম্মু ও কাশ্মীরে গিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দল। সেইবার সাধারণ নাগরিকের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছিলেন প্রতিনিধিরা। তবে সবটাই ছিল একটা ‘গাইডেড ট্যুর’। কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে থেকেই আমজনতার সঙ্গে কথা বলতে হয় তাঁদের। এমনকি তাদের সামনে হাজির করা হয় অ-কাশ্মীরিদের। তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

ফের একবার তাদের আমন্ত্রণ জানায় ভারত। তবে এবার কোনও রকম পাহারা দেওয়া বা গাইডেড ট্যুর করতে রাজি নয় ১৭ জনের ওই বিদেশী প্রতিনিধিদের দল। তারা কাশ্মীরের গ্রামে গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলতে চান। এতেই আপত্তি ভারত সরকারের। ফলে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাঁরা এই মুহূর্তে কাশ্মীর সফরে আসতে পারবেন না। বরং পরে তাঁরা আসবেন বলে জানিয়েছেন।

গত বছর ৫ অগস্ট প্রতাহার করা হয় জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ৩৭০ ধারা। বিশেষ এই মর্যাদা হারিয়ে বর্তমানে জম্মু এবং কাশ্মীর কেন্দ্র শাসিত পৃথক দুটি অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

৩৭০ ধারা প্রত্যাহারের পর থেকেই প্রায় ছয় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে সেখানের ইন্টারনেট পরিষেবা। জারি রয়েছে বিশেষ আইন। সাধারণ মানুষ কার্যত এখন গৃহবন্দী। যেই আন্দোলনে শামিল হচ্ছে তাকেই ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।