দিল্লিতে ভরাডুবি: বিজেপিতে চাপা কোন্দল

ভারতের রাজধানী দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবি হয়েছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের দলকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো দিল্লিতে সরকার গঠন করেছে আম আদমি পার্টি। আর এই দোষ দলের নেতাদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন বিজেপির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অমিত শাহ। যা নিয়ে দলের মধ্যে কোন্দলের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজেপিকে হেলায় উড়িয়ে পরপর ৩ বার দিল্লির মসনদে বসেছেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল। দিল্লির ৭০ আসনের মধ্যে ৬২টি আসনেই জয়ী হয়েছেন আপ প্রার্থীরা। মাত্র ৮টি আসন জিতে কোনওমতে দিল্লিতে অস্তিত্ত্ব টিকিয়ে রেখেছে গেরুয়া শিবির। একটিও আসন পায়নি কংগ্রেস। ৬০টিরও বেশি আসনে জামানত জব্দ হয়েছে কংগ্রেস প্রার্থীদের।

দিল্লিতে ভোটের প্রচারে অনুরাগ ঠাকুর, প্রবেশ ভার্মারা কেজরিকে নিশানা করতে গিয়ে একাধিক উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। যা নিয়ে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়। শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের নিশানা করে সরব হন মোদি-শাহরাও। ভোটের প্রচারে বেরিয়ে বিজেপি নেতারা কেজরিওয়ালকে সন্ত্রাসবাদী, দেশদ্রোহী, ধোঁকাবাজ বলেও আক্রমণ শানিয়েছেন। শাহের দাবি, দলেরই নেতাদের একাধিক মন্তব্য হয়তো বা ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি দিল্লিবাসী। তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে ভোটের বাক্সে।

দিল্লি ভোটের ফল প্রকাশের পরই নীরব ছিলেন অমিত শাহ। ভোটের ফল প্রকাশের ৩ দিনের মাথায় অবশেষে মুখ খোলেন তিনি। এরই পাশাপাশি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ইস্যুতে চলা আন্দোলন নিয়েও মুখ খোলেন শাহ। এই প্রসঙ্গে অমিত শাহ বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করার অধিকার সবার আছে৷’

দিল্লিতে ভোটের প্রচারে নেমে আগাগোড়া মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালকেই নিশানা করেছে গেরুয়া শিবির। একইসঙ্গে শাহিনবাগে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী সওয়ালও শোনা গিয়েছে বিজেপি নেতাদের মুখে। উলটোদিকে, গেরুয়া শিবিরের আক্রমণ নিয়ে পাল্টা জবাব দেওয়ার রাস্তায় যাননি অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

কাজের নিরিখে জনতার দরবারে গিয়ে ভোট চেয়েছেন কেজরি। নিজেকে ঘরের ছেলে বলে দাবি করে আরও একবার তাঁকে সমর্থন করতে আবেদন জানিয়েছেন। কেজরির ডাকে সাড়া দিয়েছেন দিল্লিবাসী। তাঁদের সমর্থন উজাড় করে দিয়েছেন আপ প্রার্থীদের।

এদিকে, ব্যাপক ভরাডুবির পর বিজেপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী মনোজ তিওয়ারি। দিল্লির আরও বেশ কয়েকজন বিধায়ক প্রত্যাশী দল ছাড়তে পারেন বলে গুঞ্জন। অন্যদিকে, জয়ের পরেই প্রায় কয়েক হাজার বিজেপি নেতা-কর্মী যোগ দিয়েছেন আপে। যা নিয়ে এখন দলের অন্দরে ব্যাপক কোন্দল চলছে।