হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার আশঙ্কা, কেজরীওয়ালের বাড়ি ঘেরাও

দিল্লিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। গতকালই যেখানে মৃতের সংখ্যা ছিল ১৩, এ দিন সকালে তা ১৮-য় পৌঁছেছে। অথচ তা ঠেকাতে নাকি কোনও ব্যবস্থাই নিচ্ছে না সরকার।

এই অভিযোগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়ালের বাসভবনের বাইরে জড়ো হন বহু মানুষ, যাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই পড়ুয়া। রাজধানীতে হিংসা রুখতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি জানান সকলে।

জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রদের সংগঠন এবং জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে মঙ্গলবার কেজরীওলের বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। তাতে সাড়া দিয়ে গভীর রাতে বহু মানুষ জড়ো হন মুখ্যমন্ত্রীবাসভবনের কাছে।

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও ছিলেন সেখানে। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন তাঁরা। দাবি ওঠে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির যে যে এলাকায় হিংসা ছড়িয়েছে, অবিলম্বে সেখানে যেতে হবে কেজরীবালকে। স্থানীয় বিধায়কদের শান্তি মিছিল বার করতে নির্দেশ দিতে হবে, যাতে যে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে রাশ টানা যায়।

ইন্ডিয়া টুডে’তে প্রকাশিত খবর খবর মোতাবেক, উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে দেখা মাত্র গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি মন্ত্রকের তরফে জারি করে দেওয়া হয়েছে।

জানা যাচ্ছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির একাধিক এলাকা সবথেকে বেশি আক্রান্ত। আর সেই কারণে এই সমস্ত এলাকাতে স্যুট এন্ড সাইটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় মিডিয়া সূত্রে খবর, উত্তর-পূর্ব দিল্লির যমুনা বিহারে শাহিদ সিদ্দিকির বাড়ি ঘিরে ফেলেছিল উত্তেজিত জনতা। তারপর শাহিদের গ্যারাজে আগুন লাগায় জনতা। স্লোগান দেয় ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’।

এ সময় ঘটনাস্থলে হাজির হন বিজেপির স্থানীয় পুরপিতা প্রমোদ গুপ্ত। তিনিই বুক চিতিয়ে রুখে দাঁড়ান, শাহিদের বাড়িতে আগুন লাগানো যাবে না। শাহিদরা প্রমোদের দীর্ঘদিনের পরিচিত। তাদের কোনও ক্ষতি হতে দেননি প্রমোদ।

পরিস্থিতি এখন হিন্দু-মুসলিম ইস্যুতে চলে গেছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের দাঙ্গারও আশঙ্কা করা হচ্ছে।